×
ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চোখে ছানি পড়ার কারণ জানা গেলো কোরআন থেকেই

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ১৩:৫৬:৩৫
চোখে ছানি পড়ার কারণ জানা গেলো কোরআন থেকেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: চোখের ছানি বা ক্যাটার্যাক্ট শুধু দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেয় না, এর প্রভাব মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দৃষ্টিজনিত সমস্যা বিষণ্নতা, হতাশা ও মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে দৈনন্দিন কাজকর্ম, চলাফেরা এবং সামাজিক যোগাযোগে বাধা তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চোখের ছানি হলে চোখের স্বচ্ছ লেন্স ধীরে ধীরে ঘোলাটে হয়ে যায়। এর ফলে দৃষ্টি ঝাপসা দেখা, আলোতে অস্বস্তি এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে অসুবিধা তৈরি হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এ সমস্যা বেশি দেখা গেলেও এর প্রভাব শুধু চোখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। দীর্ঘদিন দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভুগলে একজন মানুষ অনেক ক্ষেত্রে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে সরে যেতে পারেন। এর সঙ্গে মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।

চোখের ছানি ও মানসিক স্বাস্থ্যের এই সম্পর্কের প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা ইউসুফের ৮৪ নম্বর আয়াতের ঘটনাটিও আলোচনায় আসে। আয়াতে নবী ইয়াকুব (আ.)-এর গভীর শোকের বর্ণনা রয়েছে। নবী ইউসুফ (আ.)-কে হারানোর বেদনায় তিনি এতটাই শোকাহত হয়েছিলেন যে, অতিরিক্ত কান্নার কারণে তাঁর চোখ সাদা হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় অনেকে দীর্ঘস্থায়ী শোক, কান্না এবং চোখের দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তনের মধ্যে একটি সম্পর্ক দেখতে চান। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোচনায়ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও শারীরিক স্বাস্থ্যের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা রয়েছে। তবে সূরা ইউসুফের ওই আয়াতে বর্ণিত চোখের অবস্থাকে সরাসরি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ‘ক্যাটার্যাক্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে—এমন দাবি সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণাগুলোতেও দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে এবং এর সঙ্গে বিষণ্নতার মতো মানসিক সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স্ক কোনো ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে গেলে বিষয়টি শুধু চোখের চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার মানসিক অবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো চোখের পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা ও সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সূরা ইউসুফের আয়াতটি মানুষের গভীর শোক ও তার শারীরিক প্রভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে আধুনিক গবেষণা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি আলাদাভাবে তুলে ধরেছে। ফলে চোখের ছানি বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়াকে শুধু একটি চোখের সমস্যা হিসেবে না দেখে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে