×
ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি নিয়ে তর্কের মধ্যেই ফাতিমার নতুন দাবি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৬:৩৯:৩৩
ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি নিয়ে তর্কের মধ্যেই ফাতিমার নতুন দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে নিয়ে তিনটি ছবির ফ্রেম ভেঙে ছবি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ছবিগুলো সংগ্রহশালায় রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ভেঙে ফেলা প্রথম ছবিটি শুধু জিন্নাহর একক ছবি নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় নির্বাচনসংক্রান্ত একটি সংবাদপত্রের কাটিং, যেখানে জিন্নাহকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় ছবিটি ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের সময়কার বলে জানান ফাতিমা তাসনিম জুমা। তার দাবি, ওই ছবিতে বাংলার নেতা এ কে ফজলুল হকের সঙ্গে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহও ছিলেন। লাহোর প্রস্তাবের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তৃতীয় ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, ছবিটির ক্যাপশনেই জিন্নাহর উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার অবস্থান এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাতের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। তাই ছবিটিকে ‘গৌরবগাথা’ হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে সোমবার দুপুরে আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলোর ফ্রেম ভেঙে ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি ডাকসু নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন এবং ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ছবি ভাঙার আগে আবু তৈয়ব হাবিলদার দাবি করেন, জিন্নাহর বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাকে ডাকসু সংগ্রহশালায় স্থান দেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে একমাত্র ভাষা করার অবস্থানের কারণে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জিন্নাহর ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

ছবিগুলো সংগ্রহশালায় স্থাপনের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছিল। সর্বশেষ ছবির ফ্রেম ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, ভাষা আন্দোলন ও পাকিস্তান আমলের ইতিহাস উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে