×
ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশাল থেকে কলকাতা, এখনো নানকের কাছে যেভাবে যায় কোটি টাকা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ০৬:২৭:৫২
বরিশাল থেকে কলকাতা, এখনো নানকের কাছে যেভাবে যায় কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সম্পদ, জীবনযাপন এবং দেশের বাইরে তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন এবং সেখানে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

তার এই জীবনযাপনের অর্থের উৎস নিয়েও বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বাংলাদেশে বিভিন্ন খাত থেকে অর্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে দেশের বাইরে তার কাছে পৌঁছাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

নানকের সম্পদ নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় তার নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্য। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০০৮ সালের হলফনামার তুলনায় ২০২৪ সালের হলফনামায় তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ গুণ বেড়েছে।

যদি হলফনামার তথ্য অনুযায়ী এমন উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—এই সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে আয়ের কোন কোন উৎস কাজ করেছে?

সম্পদ বৃদ্ধির ব্যাখ্যা অবশ্য শুধু রাজনৈতিক পদ বা মন্ত্রিত্ব দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। ব্যবসা, বিনিয়োগ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধি এবং অন্যান্য বৈধ আয়ও সম্পদ বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট হলফনামা, আয়কর নথি এবং সম্পদের মালিকানা যাচাই প্রয়োজন।

নানক বর্তমানে কলকাতায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে অবস্থান করছেন।এছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার সম্পদ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সম্পদের মালিকানা, ক্রয়ের সময়, ক্রয়মূল্য এবং বর্তমান বাজারমূল্য যাচাই করা গেলে তার সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

বিদেশে কোনো সম্পত্তি থাকলে সেটির মালিকানা কীভাবে অর্জিত হয়েছে এবং অর্থের উৎস কী ছিল—সেটিও স্বচ্ছতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ দেশের বাইরে পাঠানো এবং সেই অর্থ নানকের কাছে পৌঁছানোর দাবি।

হুন্ডি ব্যবস্থার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সেটি গুরুতর আর্থিক অনিয়মের বিষয় হতে পারে। তবে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণের জন্য আর্থিক লেনদেনের নথি, ব্যাংকিং তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লেনদেন এবং তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধান প্রয়োজন।শুধু কারও বিদেশে অবস্থান বা বিলাসী জীবনযাপনের ভিত্তিতে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

নানকের বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হলো, রাজনৈতিক ক্ষমতা হারানোর পরও তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার নির্দেশনা বা প্রভাব রয়েছে—এমন দাবি নিয়েও আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগ সত্য কি না, তা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য প্রয়োজন।

একজন সাবেক মন্ত্রীর রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করা—দুটি ভিন্ন বিষয়। তাই অভিযোগ থাকলে তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।বরিশালের ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের সঙ্গে নানকের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এখানে মূল বিষয় হতে পারে—প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক কী, মালিকানা বা পরিচালনায় তার কোনো ভূমিকা আছে কি না এবং আর্থিকভাবে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত কি না।এ ধরনের তথ্য যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধন নথি, ট্রাস্ট বা পরিচালনা কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড দেখা প্রয়োজন।

নানকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, সেটিও সংবাদটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে এবং পাঠানো বার্তারও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সম্পদ নিয়ে জনস্বার্থে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে নির্বাচনী হলফনামায় কয়েক বছরে সম্পদের বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেলে তার বৈধ উৎস সম্পর্কে জনসাধারণের জানার অধিকার রয়েছে।

নানকের ক্ষেত্রেও তাই মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত—তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ কত, এসব সম্পদ কীভাবে অর্জিত হয়েছে, দেশে ও বিদেশে তার কোনো সম্পত্তি রয়েছে কি না এবং সম্পদের সঙ্গে ঘোষিত আয়ের সামঞ্জস্য আছে কি না।

যদি কোনো সম্পদ বা অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী ও আর্থিক তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা যেতে পারে।অন্যদিকে অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও নথিপত্রও প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে