ঢাকা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা

২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৯:০০:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দক্ষিণ ইরানের লারাক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। গত জুলাইয়ের শেষভাগের পর দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বড় ধরনের সংঘাতের এটি প্রথম ঘটনা। খবর আলজাজিরার।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার (৩০ আগস্ট) এ হামলা চালানো হয়। ‘শাস্তি’ নামে পরিচালিত যৌথ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক এলাকায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

আইআরজিসির দাবি, হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কারিগরি ও মেরামত অবকাঠামো এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের স্থানগুলো ধ্বংস হয়েছে। এতে মার্কিন পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।

তবে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন ঘাঁটিতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হামলার পর আইআরজিসি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছে, হুমকি বা সামরিক হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে ইরানের ওপর প্রতিটি হামলার জবাব আরও ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মকভাবে দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক কমান্ড (সেনটকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যাতে মাইন স্থাপন করতে না পারে, সে উদ্দেশ্যে রবিবার ‘সীমিত ও সুনির্দিষ্ট’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই পদক্ষেপ কোনো আগ্রাসন ছিল না।

তবে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারাক দ্বীপে মার্কিন-সিয়োনবাদী বাহিনীর হামলায় ইরানের কয়েকজন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর সপ্তম মাস চলছে। এতদিন ওয়াশিংটন মূলত অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছিল। তবে রবিবারের হামলা থেকে ইঙ্গিত মিলছে, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরে আসেনি।

এদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ওয়াশিংটন বলছে, তারা জলপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করছে। বিপরীতে তেহরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই ওই এলাকায় নিয়মিত সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।

তবে মার্কিন তেল সরবরাহসংক্রান্ত দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং বাজারে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোষ্ঠী মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।

ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দামও বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

মিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে