ঢাকা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

‘বাংলাদেশে এখন বোনকেও কিস করতে পারবো না’

২০২৬ আগস্ট ৩১ ০৮:১৭:৪৬
‘বাংলাদেশে এখন বোনকেও কিস করতে পারবো না’

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে নিজের পাঁচ বছর বয়সী বোনকে নিয়ে আপত্তিকর ভিডিও তৈরির অভিযোগে মেহেদী হাসান সিয়াম (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়ার পর পুলিশের হাতে আটক হওয়ার আগে ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিয়াম। ওই লাইভে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দুই দিন পরপর একটা আইন বাইর হবে যে বোনকেও চুমা দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশে এখন বোনকেও কিস করতে পারবো না।’

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার খলিলপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে। সিয়াম মাচ্চর ইউনিয়নের খলিলপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে। তার পাঁচ বছর বয়সী বোন স্থানীয় একটি মাদরাসার শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে ব্যবহারকারীদের রিপোর্টের পর ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ২৩ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

ভিডিওটিতে এক তরুণকে একটি শিশুকে কোলে নিয়ে আপত্তিকর আচরণ করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

পুলিশের দাবি, সিয়াম নিজের ফেসবুক পেজ ও টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করেন।

২০২৫ সালের মার্চে ফেসবুক পেজটি খোলেন সিয়াম। এরপর থেকে সেখানে বিভিন্ন ধরনের রুচিহীন ও বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার ফেসবুক পেজে এ ধরনের শতাধিক ভিডিও রয়েছে। একইভাবে টিকটক অ্যাকাউন্টেও ১৫৭টির বেশি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এসব কনটেন্টে নারী, শিশু ও যৌনতা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত উপস্থাপনা ছিল বলে জানা গেছে।

তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ঘুরে দেখা যায়, আগের অধিকাংশ ভিডিওতে কয়েকশ ভিউ থাকলেও কিছু ভিডিও কয়েক হাজারবার দেখা হয়েছে। তবে সর্বশেষ ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুধু টিকটকেই ভিডিওটি ১৬ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ভিডিওটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন সিয়াম। ৫১ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের ওই লাইভে তিনি নিজের করা ভিডিও নিয়ে কথা বলেন এবং সমালোচনার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন।

লাইভে তিনি বলেন, ‘আমার লাইভে ভিউ আসে না। তবুও প্রমাণ হিসেবে লাইভটা রেখে দিচ্ছি। আমি একটা বাচ্চা মেয়েকে চুমা দিছি। ওর গালটা অনেক সেনসেটিভ। তাই লাল হয়ে গেছে।’

এরপরই তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দুই দিন পরপর একটা আইন বাইর হবে যে বোনকেও চুমা দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশে এখন বোনকেও কিস করতে পারবো না।’

লাইভের বিভিন্ন অংশে তিনি ইংরেজি ভাষায় বাংলাদেশ ও দেশের মানুষকে গালমন্দ করেন বলেও জানা গেছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, মেহেদী হাসান মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে থাকতেন। কিছুদিন আগে তিনি দেশে ফেরেন।

সিয়ামের বাবা মাহবুবুর রহমান টিপলু বলেন, ‘কী বলবো, বুঝতে পারছি না। ও টিকটকে এসব কী করেছে আমি ঠিক জানি না। পুলিশ আসার পর সব জানতে পেরেছি। ওরা দুইজনই তো আমার ছেলে-মেয়ে। আমি এর বেশি কিছু বলতে পারছি না। আমি লজ্জিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করেছিল। জরিমানা দিয়ে ছেলেকে মুক্ত করে বাড়িতে নিয়ে এসেছি।’

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, বর্তমানে তরুণদের মধ্যে রাতারাতি ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পরিবার ও সমাজকে উদ্যোগ নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হিরামন বিশ্বাস বলেন, ‘ওই ভিডিওতে অশ্লীল কিছু পাওয়া যায়নি। তারা দুইজন আপন ভাই-বোন। তবে বিষয়টি দৃষ্টিকটু দেখা গেছে।’

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে সিয়ামকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা আপন ভাই-বোন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বলেন, ওই যুবককে পাবলিক নুইসেন্সের অভিযোগে পেনাল কোডের ২৯০ ধারায় অভিযুক্ত করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে