ঢাকা, সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬

বিএসইসির তদন্ত শুরুর পর দুই কোম্পানির শেয়ার দরে ধস

২০২৬ আগস্ট ৩১ ১৮:৪৪:৩৬
বিএসইসির তদন্ত শুরুর পর দুই কোম্পানির শেয়ার দরে ধস

নিজস্ব প্রতিবেদক: অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশে তদন্ত শুরু হওয়ার পর ব্যাপক বিক্রয়চাপের মুখে পড়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও আমরা টেকনোলজিসের শেয়ার। সম্ভাব্য কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিং নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দুই কোম্পানির শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার ১২ কার্যদিবসে ৪৭.৯৮ কমে ২৩ টাকা ৯০ পয়সায় নেমেছে। অন্যদিকে, আমরা টেকনোলজিসের শেয়ার ১৫ কার্যদিবসে ২৮.৫৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৫০ পয়সায়।

বিএসইসির কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কোম্পানি দুটির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের ধরন খতিয়ে দেখতে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেয় কমিশন। এরপরই দুই কোম্পানির বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে ডিএসই।

তদন্ত শেষে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন কমিশনে জমা দিতে ডিএসইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোম্পানি দুটির শেয়ারে বাজার কারসাজি, সমন্বিত বা প্রকৃত নয় এমন লেনদেন কিংবা অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের ভিত্তিতে ইনসাইডার ট্রেডিং হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, ডিলার ও অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন বিধিমালা এবং বিএসইসির সংশ্লিষ্ট আদেশ, প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলেছেন কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় থাকবে। সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটনে তারা কোনোভাবে সহায়তা করেছেন কি না, তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছেন কি না অথবা পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত অন্য কোনো আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হবে।

সন্দেহজনক লেনদেন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত প্রতিনিধি, কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের সচেতন করতে ডিএসইকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে বড় উত্থান-পতন

ডিএসইর তথ্য বলছে, গত ১৫ জুন শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দর ছিল ১৭ টাকা। সেখান থেকে মাত্র কয়েক সপ্তাহে বেড়ে ১২ আগস্ট ৪৪ টাকা ১০ পয়সায় ওঠে। অর্থাৎ এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছিল ১৫৬ শতাংশ।

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের কারণ জানতে গত ১১ আগস্ট কোম্পানিটির কাছে ব্যাখ্যা চায় ডিএসই। জবাবে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ জানায়, তাদের ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং শেয়ারের দর বাড়ার ব্যাখ্যা দেওয়ার মতো কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যও নেই।

এরপর শেয়ারটিতে ব্যাপক বিক্রয়চাপ তৈরি হয়। ১২ কার্যদিবসে দর ৪৭.৯৮ শতাংশ কমে ৩১ আগস্ট ২৩ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে আসে।

দরবৃদ্ধি ও পরবর্তী দরপতনের সময় কোম্পানিটি পরিচালনাগত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রয়েছে। টেক্সটাইল স্পিনিং প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৭০ টন হলেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে ৪২ টনে নেমেছে।

প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্পিন্ডল থাকা কোম্পানিটির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে। মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ২৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও ৬৫ কোটি টাকা নিট লোকসান করেছে। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ১৬ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ছিল ৭ টাকা ৯২ পয়সা।

তবে কোম্পানিটি সামনে কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনাও দেখছে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ছয় মাসের নিশ্চিত অর্ডার, পণ্যের দাম বৃদ্ধি, রপ্তানি প্রণোদনা বাড়া এবং ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থার চাপ কমে আসা। বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার বাড়বে, নিশ্চিত অর্ডার পূরণ করা সহজ হবে এবং প্রতিযোগীরা উৎপাদন সংকটে পড়ায় নতুন অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে কোম্পানিটি মনে করছে।

আমরা টেকনোলজিসেও অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি

বিএসইসির তদন্তের আওতায় আসার আগে আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি দেখা যায়। গত ২৩ জুন শেয়ারটির দর ছিল ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। সেখান থেকে বেড়ে ৯ আগস্ট ২৩ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছে। অর্থাৎ দুই মাসেরও কম সময়ে শেয়ারটির দর প্রায় ৫৯ শতাংশ বাড়ে।

এরপর শেয়ারটিতে বড় ধরনের দরপতন শুরু হয়। ১৫ কার্যদিবসে ২৮.৫৭ শতাংশ কমে ৩১ আগস্ট শেয়ারটির দর ১৬ টাকা ৫০ পয়সায় নেমে আসে। কোম্পানিটির দুর্বল আর্থিক পারফরম্যান্সের মধ্যেই শেয়ারের এ ধরনের দরবৃদ্ধি দেখা যায়।

২০২৫ অর্থবছরে আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩ টাকা ১৭ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ১৮ টাকা ৪৬ পয়সা। কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

আমরা টেকনোলজিস মূলত আইটি অবকাঠামো, নেটওয়ার্কিং, ডেটা সেন্টার, সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং এন্টারপ্রাইজ প্রযুক্তি সেবা নিয়ে কাজ করে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সরবরাহ করে কোম্পানিটি।

এখন বিএসইসির নির্দেশে চলমান তদন্তেই নির্ধারিত হবে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও আমরা টেকনোলজিসের শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি প্রকৃত বাজার চাহিদার কারণে হয়েছিল, নাকি এর পেছনে কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং, ব্রোকার পর্যায়ের অনিয়ম কিংবা শেয়ারবাজারের বিধিবিধান লঙ্ঘনের মতো কোনো ঘটনা ছিল।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে