ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

সরকারি হাসপাতালই হবে ভরসার একমাত্র জায়গা: প্রধানমন্ত্রী

২০২৬ জুলাই ২০ ২১:৪১:৫৯
সরকারি হাসপাতালই হবে ভরসার একমাত্র জায়গা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা যেন আরও সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি রোগীদের প্রতি আরও যত্নশীল ও আন্তরিক আচরণ করার আহ্বানও জানিয়েছেন চিকিৎসকদের প্রতি।

তিনি বলেন, যেকোনো উপায়েই গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তি সহজ করতে হবে এবং তাদের জন্য সন্তোষজনক সেবা ও পর্যাপ্ত ওষুধের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতালে এসে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং চিকিৎসার জন্য অন্যত্র ছুটতে না হয়—সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের ভরসার একমাত্র জায়গায় পরিণত হয়, এমন প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে অবস্থিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে স্বয়ং উপস্থিত হয়ে বৈঠক করলেন।

বৈঠকে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট আরও বেশ কিছু বিষয়ে নির্দেশনা দেন তিনি। আলোচনার শুরুতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতে কী অর্জিত হয়েছে, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে।

জবাবে জানানো হয়, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর আমলে স্বাস্থ্যখাত প্রায় বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়েছিল, যার ফলে প্রান্তিক মানুষের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে নিরলস কাজ চলছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

আলোচনায় স্থান পায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আসা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গও। এতে উঠে আসে, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও রোগীরা প্রত্যাশিত মানের সেবা পাচ্ছেন না, এমনকি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অবহেলাজনিত ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন।

কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, জেলা পর্যায়ে বর্তমানে থাকা ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টারগুলোকে সম্প্রসারিত করে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এর পাশাপাশি আগামী তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে দক্ষ জনবল তৈরি ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিতের নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে বিদ্যমান ৫১ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি পরিকল্পনা নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামো নির্মাণসংক্রান্ত পরিকল্পনা তুলে ধরেন গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীরা, যেখানে অবকাঠামোর নকশাসহ নানা খুঁটিনাটি বিষয় উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের পরিচালক ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারাও।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে