ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিক্রির চাপ বাড়লেও স্থিতিশীল বাজার

২০২৬ জুলাই ১৯ ১৫:০২:৪২
বিক্রির চাপ বাড়লেও স্থিতিশীল বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক : সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ জুলাই) দেশের শেয়ারবাজারে সূচক ও লেনদেন—দুই ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সবগুলো সূচকের পতনের পাশাপাশি টাকার অঙ্কে লেনদেনও কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, গত সপ্তাহজুড়ে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকায় বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা আরও বেড়েছিল। তবে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজারে স্বাভাবিক দর সংশোধন শুরু হয় এবং সেই ধারাবাহিকতায় নতুন সপ্তাহের প্রথম দিনেও সূচক কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।

তাদের মতে, এদিন সূচক কমলেও বাজারে আতঙ্কের কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি। কারণ, সূচকের পতন হলেও বিনিয়োগকারীরা ব্যাপকহারে শেয়ার বিক্রি করছেন না। মূলত অনেক বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে বিক্রির চাপ কিছুটা বেড়েছে, যার প্রভাব সূচকে পড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, মধ্যপ্রাচ্যে আবারও কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার মতো ঘটনা ঘটায় আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও বাজারে কিছুটা পড়েছে। তবে এটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে ডিএসইর প্রধান সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। আগামী দিনগুলোতে বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হলে চলতি সপ্তাহেই সূচক ৬ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করতে পারে। তাই এ সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে লেনদেনে অংশগ্রহণ করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন তারা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৪৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৫৫ দশমিক ৭২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৯ দশমিক ০৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৭ দশমিক ৮০ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচকও ১৬ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট হারিয়ে ২ হাজার ২১০ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৯৮টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, ২৪৫টির দর কমেছে এবং ৪৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

লেনদেনের পরিমাণও আগের কার্যদিবসের তুলনায় কমেছে। রোববার ডিএসইতে মোট প্রায় ১ হাজার ৭০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ১১৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) রোববার মোট ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যেখানে লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকার।

সিএসইতে এদিন মোট ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে, ১৩৭টির দর কমেছে এবং ২৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

দিনশেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৬৬ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসেও এ সূচক ৫৫ দশমিক ০৪ পয়েন্ট কমেছিল।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে