ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

আগস্টেই মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: দুই মন্ত্রী বাদ

২০২৬ জুলাই ১৯ ১১:২২:২৪
আগস্টেই মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: দুই মন্ত্রী বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে আগামী আগস্টে মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে। পাশাপাশি কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস এবং মন্ত্রিসভার আকার সামান্য বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, অন্তত দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে কোনো মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের বক্তব্য, মন্ত্রিসভায় রদবদল বা দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না।

জাতীয় নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। শুরুতে তার মন্ত্রিসভায় ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন পদত্যাগ করেন।

আগস্টে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হবে। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন চলছে বলে সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিমন্ত্রী একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "সরকার গঠনের সময়ই জানানো হয়েছিল, প্রথম ছয় মাস মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধীরগতি এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া যেসব মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে বা প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি, সেসব ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

সূত্রগুলোর দাবি, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অন্তত দুই জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েও আলোচনা চলছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন এবং সম্প্রতি বিভিন্ন বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছেন। তবে কাউকে বাদ দেওয়া বা দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানো হলে কয়েকটি নতুন মুখ যুক্ত হতে পারেন। আলোচনায় রয়েছেন এবিএম মোশাররফ হোসেন, সেলিমা রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকত উল্লাহ বুলু এবং জয়নুল আবদিন ফারুক।

এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নামও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার মতে, সরকারের প্রথম ছয় মাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানো, সমন্বয় উন্নত করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মন্ত্রিসভায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে