ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

থানায় উত্তেজনা, এনসিপির নেতাদের গ্রেপ্তার ঘিরে যা ঘটল

২০২৬ জুলাই ০৭ ১৬:০৩:১৯
থানায় উত্তেজনা, এনসিপির নেতাদের গ্রেপ্তার ঘিরে যা ঘটল

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনাজপুরে এক কৃষককে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এনসিপির যুব শাখার পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের গোর-এ-শহীদ ময়দান এলাকা থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আদালতে হাজির করার পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ মুন (২৯), হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সাজিদুল মিনহাজ (২৬) এবং হৃদয় হোসেন (২২)।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের খোশালপুর পুকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ (৫৯) গত ৫ জুলাই রাতে পল্লী বিদ্যুৎ পাঁচ মাইল এলাকায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে যান।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে তাকে ও তার নাতিকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোনসহ জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরদিন আব্দুস সামাদের মোবাইল ফোন থেকে তার ছেলে মো. মামুনের কাছে ফোন করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। টাকা না দিলে তাকে হত্যা বা গুরুতর জখম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোর-এ-শহীদ ময়দান এলাকা থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করে। এ সময় একটি প্রাইভেটকারসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় ভুক্তভোগীর মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন।

পরে আব্দুস সামাদের ছেলে বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারের পর কোতোয়ালি থানায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, এনসিপির কয়েকজন নেতাকর্মী আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে থানায় গেলে সেখানে হট্টগোল ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও থানায় অবস্থান নেন। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে এনসিপির কিছু নেতাকর্মীর বাগ্‌বিতণ্ডার অভিযোগও ওঠে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুন্নবী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অপহরণ ও চাঁদাবাজির মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের স্বার্থে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে