ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

হাম মোকাবিলায় জরুরি রোডম্যাপ দিলেন ডা. তাসনিম জারা

২০২৬ মে ১৬ ১৫:২২:২০
হাম মোকাবিলায় জরুরি রোডম্যাপ দিলেন ডা. তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় একটি সমন্বিত জাতীয় রোডম্যাপ কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদ ডা. তাসনিম জারা।

শুক্রবার (১৫ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

তিনি জানান, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন, যা কোভিড বা সাধারণ ফ্লুর তুলনায় অনেক বেশি। হামের ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো স্থান ত্যাগ করার দুই ঘণ্টা পরও সেখানে প্রবেশকারী ব্যক্তি সংক্রমিত হতে পারেন।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষের টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। এই সীমার নিচে নেমে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। জাতীয়ভাবে টিকাদানের হার বেশি হলেও দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, শহুরে বস্তি বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকার কভারেজ কম থাকায় সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি প্রস্তাব করেন, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম বা মহল্লাভিত্তিকভাবে দ্রুত আক্রান্ত এলাকা শনাক্ত করতে হবে। এজন্য জাতীয় হাম হটলাইন বা কল সেন্টার চালুর পরামর্শ দেন তিনি। এই হটলাইনের মাধ্যমে কেস শনাক্তকরণ, কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং, রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ড ও চিকিৎসা সমন্বয় করা সম্ভব বলে মত দেন তিনি।

তার প্রস্তাব অনুযায়ী, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামের লক্ষণ—জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লাল র‍্যাশ—সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। লক্ষণ দেখা দিলে অভিভাবকরা নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করবেন এবং প্রশিক্ষিত চিকিৎসকরা প্রাথমিক যাচাইয়ের পর রোগীকে নির্ধারিত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠাবেন।

তিনি আরও বলেন, সব তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে সংগ্রহ করলে কোন এলাকায় সংক্রমণ বাড়ছে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এর ভিত্তিতে দ্রুত টিকা টিম পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

ডা. তাসনিম জারা “রিং ভ্যাকসিনেশন” কৌশল চালুরও পরামর্শ দেন। অর্থাৎ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে তার সংস্পর্শে আসা পরিবার, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও আশপাশের মানুষকে দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে, যাতে সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা যায়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আক্রান্ত শিশুকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার কারণে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। এজন্য প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র, আইসোলেশন কক্ষ ও আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়া তিনি জাতীয় বেড-অ্যাভেইলেবিলিটি ড্যাশবোর্ড চালুর প্রস্তাব দেন, যেখানে কোন হাসপাতালে কতটি বেড বা আইসিইউ খালি আছে তা রিয়েল-টাইমে দেখা যাবে। এর মাধ্যমে রোগীদের অযথা হাসপাতাল ঘুরতে হবে না।

আইসিইউ সংকট মোকাবিলায় বিভাগভিত্তিক বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় সরকারিভাবে বহনেরও দাবি জানান।

সবশেষে ডা. তাসনিম জারা বলেন, বিশ্বে হামের মতো প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার কার্যকর পদ্ধতি আগে থেকেই প্রমাণিত। এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে