ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ব্র্যাক ব্যাংক সর্বোচ্চ মুনাফায়, বড় লোকসানে ইসলামী ব্যাংক

২০২৬ মে ১৬ ১১:১৭:৪০
ব্র্যাক ব্যাংক সর্বোচ্চ মুনাফায়, বড় লোকসানে ইসলামী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও বড় মুনাফা করেছে দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান ব্যাংক ব্র্যাক ব্যাংক। সহযোগী কোম্পানিগুলোর মুনাফাসহ (সমন্বিত হিসাবে) জানুয়ারি-মার্চ সময়ে ব্যাংকটি ৫৭৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। অন্যদিকে একই সময়ে বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ২৮৮ কোটি টাকা লোকসান করেছে।

সম্প্রতি ব্যাংক দুটি যে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) প্রকাশ করেছে, তার ভিত্তিতে এই তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীর্ষ দুই ব্যাংকের এই বিপরীত চিত্র শুধু পৃথক ব্যাংকের নয়, বরং পুরো ব্যাংক খাতের বৈচিত্র্যময় অবস্থার প্রতিফলন।

তাদের মতে, যেসব ব্যাংক ব্যাংকিং আইন, সুশাসন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করেছে, সেগুলোর মুনাফায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অন্যদিকে যেসব ব্যাংকে এর ব্যত্যয় ঘটেছে, সেগুলো আর্থিক চাপে পড়েছে।

গতকাল বুধবার পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ২৪টির প্রথম প্রান্তিকের ইপিএস তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২০টি ব্যাংক মুনাফা করেছে এবং ৪টি ব্যাংক লোকসানের তথ্য দিয়েছে।

তবে মুনাফায় থাকা ২০ ব্যাংকের মধ্যে ৬টির মুনাফা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জনকারী ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক ছাড়াও সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক এবং উত্তরা ব্যাংক।

অন্যদিকে লোকসানে থাকা চার ব্যাংক হলো ইসলামী ব্যাংক, এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের লোকসান সবচেয়ে বেশি—১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। আইএফআইসি ব্যাংক লোকসান করেছে ৮৬১ কোটি টাকা এবং এবি ব্যাংক ৮২৬ কোটি টাকা।

মুনাফায় থাকা ২০ ব্যাংকের মোট নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তবে লোকসান করা চার ব্যাংকের সম্মিলিত লোকসান ৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, প্রথম প্রান্তিকে ব্র্যাক ব্যাংক প্রতি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারে ২ টাকা ৯০ পয়সা শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) অর্জন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২ টাকা ২ পয়সা। ব্যাংকটি জানিয়েছে, সুদ আয় বৃদ্ধি এবং সরকারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ থেকে অতিরিক্ত আয় মুনাফা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক তাদের লোকসানের ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা প্রদান বৃদ্ধি এবং খেলাপি বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ায় আয় কমে গেছে, যা লোকসানের প্রধান কারণ।

প্রথম প্রান্তিকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ব্যাংকটির ইপিএস ২ টাকা ৭০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা গত বছর ছিল ৯২ পয়সা—অর্থাৎ ১৯৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি। সিটি ব্যাংকের ইপিএস ৬১ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ৫৮ পয়সায় উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিকে কিছু ব্যাংকের আয় কমেছে। ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস ১ টাকা ২৯ পয়সা থেকে কমে ৯৮ পয়সায় নেমেছে। ঢাকা ব্যাংকের ইপিএস ৮০ পয়সা থেকে ৫৬ পয়সায় এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ইপিএস ৮৪ পয়সা থেকে ২৯ পয়সায় নেমে এসেছে।

প্রাইম ব্যাংকের ইপিএস সামান্য কমে ১ টাকা ৭৯ পয়সা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ পয়সা কম।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে