ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ডেল্টা লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনে বড় অনিয়মের অভিযোগ বিএসইসির

২০২৬ মে ১৫ ১৯:২০:১৭
ডেল্টা লাইফের আর্থিক প্রতিবেদনে বড় অনিয়মের অভিযোগ বিএসইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে বিমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়ম, তথ্য গোপন এবং নিরীক্ষা গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম যথাযথভাবে আর্থিক প্রতিবেদনে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ায় নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান এম. জে. আবেদিন অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের এনগেজমেন্ট পার্টনার কামরুল আবেদিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডেল্টা লাইফের ২০১৬ থেকে ২০২০ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবের ওপর পরিচালিত বিশেষ নিরীক্ষায় বেশ কিছু গুরুতর অসঙ্গতি উঠে আসে। তবে সে সময় কোম্পানিটির নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাব অ্যান্ড জে পার্টনার্স চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক কামরুল আবেদিন এসব অসঙ্গতি যথাযথভাবে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলিত করতে পারেননি।

বিশেষ নিরীক্ষায় দেখা গেছে, অনিষ্পন্ন বিমা দাবির বিপরীতে প্রয়োজনীয় সঞ্চিতি না রেখে কোম্পানিটি মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) প্রকৃত অবস্থার চেয়ে বেশি দেখিয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানির গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে নিজস্ব নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল মূল্যায়নের উদ্বৃত্ত অর্থ স্থিতিপত্রের ইক্যুইটি অংশে অন্তর্ভুক্ত না করায় কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, ডেল্টা লাইফ ১২৪ কোটি ২ লাখ টাকার অনিষ্পন্ন বিমা দাবির বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করেনি। ফলে কোম্পানির মুনাফা ও ইপিএস অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন।

একই সঙ্গে ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকায় ৩০টি গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে কোম্পানির নিজস্ব ক্রয়নীতিও অনুসরণ করা হয়নি। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম হিসেবে ২৫৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অ্যাকচ্যুয়ারিয়াল উদ্বৃত্ত স্থিতিপত্রের ইক্যুইটি অংশে দেখানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ নিরীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, কোম্পানির মোট ইস্যুকৃত শেয়ারের ২২.৭৭ শতাংশ একই পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিষয়টি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে বিএসইসি বলছে, পর্যাপ্ত নিরীক্ষা প্রমাণ ছাড়াই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে ‘আনমডিফায়েড অপিনিয়ন’ বা অপরিবর্তিত মতামত দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠান আর্থিক প্রতিবেদনে বড় কোনো অসঙ্গতি নেই বলে মত দিলেও পরবর্তী বিশেষ নিরীক্ষায় একাধিক গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত হয়।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিএসইসির কমিশন সভায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় বিশেষ নিরীক্ষায় উদ্ঘাটিত লঙ্ঘনগুলো নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিফলিত না হওয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এফআরসিতে বিষয়টি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের মতে, নিরীক্ষকের এই ব্যর্থতার কারণে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষ কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার বিষয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু একটি বিমা কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি; বরং দেশের করপোরেট নিরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও নতুন করে আলোচনায় এনেছে। কারণ তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেই বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সেখানে নিরীক্ষকদের গাফিলতি পুরো শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে