ঢাকা, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

মতিঝিলে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক, ব্যাংক খাত নিয়ে নতুন প্রশ্ন

২০২৬ এপ্রিল ২২ ১৬:৪৪:২৪
মতিঝিলে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক, ব্যাংক খাত নিয়ে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ‘ব্যাংকপাড়া’ হিসেবে পরিচিত মতিঝিল এলাকায় হঠাৎ করেই দেয়ালে দেয়ালে সাঁটা কিছু পোস্টার ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এসব পোস্টারে একটি বেসরকারি ব্যাংককে কেন্দ্র করে শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই আর্থিক খাত, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পোস্টারগুলোতে ব্যাংক দখল, অর্থপাচার, জোরপূর্বক মালিকানা পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের মতো সংবেদনশীল অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ‘গণপ্রতিরোধে’ অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পোস্টারে কোনো প্রামাণ্য নথি বা নির্ভরযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি, ফলে এগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

পোস্টারগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় সহায়তায় ব্যাংক খাতে অনিয়ম করেছে এবং বিভিন্ন ‘ছায়া কোম্পানি’র মাধ্যমে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জোরপূর্বক মালিকানা পরিবর্তন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে অর্থ পাচার করে বিভিন্ন দেশে সম্পদ গড়ে তোলার দাবি করা হয়েছে, যার মধ্যে সিঙ্গাপুর, দুবাই, তুরস্কসহ কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ রয়েছে। যদিও এসব দাবির কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ সামনে আসেনি।

পোস্টারগুলোতে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংকে অনিয়ম প্রতিরোধ, পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা, দ্রুত বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, প্রকৃত মালিকদের হাতে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া এবং বিতর্কিত আইন সংশোধন। এসব দাবি মূলত ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রসঙ্গকে সামনে নিয়ে এসেছে।

এদিকে সম্প্রতি ব্যাংক খাতে প্রণীত একটি সংশোধিত আইন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পূর্ববর্তী শেয়ারধারীদের মালিকানা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এতে অতীতে ব্যর্থ মালিকদের ফিরে আসার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং সরকারের বিনিয়োগ সুরক্ষিত রাখা কঠিন হতে পারে। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে ব্যাংক পুনর্গঠনের একটি সম্ভাব্য উপায় হিসেবেও দেখছেন।

মতিঝিলে হঠাৎ এই পোস্টার প্রচারণা ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘদিনের কিছু মৌলিক প্রশ্নকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে করপোরেট নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা কাঠামো, অর্থপাচার এবং খেলাপি ঋণের মতো বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি আইনগত সংস্কার আদৌ সমস্যার সমাধান করবে, নাকি নতুন জটিলতা তৈরি করবে—এ নিয়েও মতভেদ বাড়ছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, এস আলম গ্রুপ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পোস্টারে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো যাচাইবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে ঘিরে নয়; বরং দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুশাসন নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের মতে, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ওমর আলী/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে