ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
Sharenews24

আইপিওতে স্বপ্ন, বাস্তবে লোকসান—বিতর্কিত কোম্পানির করুণ পরিণতি

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৫:০৫:২৮
আইপিওতে স্বপ্ন, বাস্তবে লোকসান—বিতর্কিত কোম্পানির করুণ পরিণতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং মুনাফা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল একমি পেস্টিসাইডস। সেই আশ্বাসে ভর করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করে কোম্পানিটি। তবে তালিকাভুক্তির মাত্র দুই বছরের মধ্যে মুনাফা থেকে লোকসানে নেমে এসেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিতর্কিত নিরীক্ষকের সহায়তায় অতিরঞ্জিত আর্থিক প্রতিবেদন দেখিয়ে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। আইপিওর আগে কোম্পানির আয় ও মুনাফা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে দেখা গেলেও তালিকাভুক্তির পর থেকেই উল্টো চিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করে।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর এক পরিচালক বলেন, অতীতে একাধিক কমিশনের সময়ে অনেক দুর্বল ও ভুয়া কোম্পানিকে আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব কোম্পানি কৃত্রিম আর্থিক হিসাব দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে অবহিত করা হলেও তা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জানা যায়, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং-এর পার্টনার রমেন্দ্র নাথ বসাকের মাধ্যমে একমি পেস্টিসাইডসের নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। একই নিরীক্ষক সিলভার কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস-এর একই সময়ের ভিন্ন দুটি আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা করে উভয়কেই সঠিক বলে সনদ দেন—যা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এ ঘটনার জন্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) তার নিরীক্ষা কার্যক্রমে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

কোম্পানিটির আইপিও প্রসপেক্টাসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার আয় বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দাঁড়ায় ১৫৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকায়। একই সময়ে নিট মুনাফা ৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

তবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় কিছুটা বেড়ে ১৫৯ কোটি ১১ লাখ টাকা হলেও মুনাফা কমে দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায়।

এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়। ওই সময়ে বিক্রয় আয় ১৫৯ কোটি ১১ লাখ টাকা থেকে কমে ১২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকায় নেমে আসে, যা প্রায় ২৪ শতাংশ হ্রাস। একই সঙ্গে নিট মুনাফা কমে ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বা প্রায় ৩১ শতাংশ হ্রাস পায়।

পরবর্তী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কোম্পানিটি লোকসানে পড়ে। ওই বছর তাদের মোট লোকসান দাঁড়ায় ১০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আর সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লোকসান আরও বেড়ে শেয়ারপ্রতি ১.১৪ টাকা হিসেবে মোট ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় পৌঁছায়। চলতি অর্থবছরেও এই লোকসানের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে কোম্পানিটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সেলিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া একমি পেস্টিসাইডসের পরিশোধিত মূলধন ১৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে ৬৮.২০ শতাংশ। সর্বশেষ সোমবার (৬ এপ্রিল) কোম্পানিটির শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ২০ পয়সায়।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে