ঢাকা, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

এপস্টেইনের ফাঁস হওয়া বার্তায় খাসোগি হত্যার নতুন মোড়

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০১ ১৭:০৮:১৭
এপস্টেইনের ফাঁস হওয়া বার্তায় খাসোগি হত্যার নতুন মোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নতুন নথিতে আলোচিত সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এসব নথিতে দেখা যায়, খাসোগি হত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই কুখ্যাত যৌন অপরাধী ও অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইন আনাস আল রশিদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার বার্তা আদান–প্রদান করেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) মিডল ইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে এপস্টেইন ও আল রশিদের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে খাসোগিকে হত্যা করা হয়। সে সময় অভিযোগ ওঠে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। পরবর্তী তদন্তে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে যুবরাজ এই হত্যাকাণ্ডের অনুমোদন দিয়েছিলেন।

খাসোগি হত্যাকাণ্ড দ্রুতই একটি আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের কলাম লেখক খাসোগির হত্যার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়ে।

নথিতে থাকা একটি ফলোআপ ই–মেইলে এপস্টেইন লেখেন, একটি পরোক্ষ সূত্র তাকে জানিয়েছে—হত্যা অভিযানে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই ফোন হ্যাক করে তৃতীয় পক্ষ ভিডিও ফুটেজটি সংগ্রহ করে।

২০১৮ সালের ১২ অক্টোবর তারিখে পাঠানো এক বার্তায় আল রশিদ খাসোগি হত্যাকে ‘বীভৎস… অত্যন্ত বীভৎস’ বলে উল্লেখ করেন।এর জবাবে এপস্টেইন লেখেন,“আমার মনে হচ্ছে এর পেছনে বড় কিছু রয়েছে। যদি প্রকাশ পায় যে এমবিজেড তাকে (মোহাম্মদ বিন সালমান) ফাঁসিয়ে দিয়েছেন, তবে আমি মোটেও অবাক হব না।”

এখানে এমবিজেড বলতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান–কে বোঝানো হয়েছে।এপস্টেইনের ওই মন্তব্যের জবাবে আল রশিদ শুধু লেখেন, “হুমমম।”

পরবর্তী বার্তায় আল রশিদ সতর্ক করে লেখেন, খাসোগি হত্যাকাণ্ড এখন একটি কূটনৈতিক লড়াই ও গণমাধ্যম যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরব যদি নিজেদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে তারা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন হারাতে পারে। তার মতে, সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা হবে—সত্য প্রকাশ করা, তা যতই অস্বস্তিকর হোক না কেন।

১৩ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে এপস্টেইন আরেকটি কথোপকথনে প্রশ্ন তোলেন—খাসোগিকে কি সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব, কিংবা এই হত্যাকাণ্ডকে একটি ব্যর্থ গোপন অভিযান বা কারও জন্য ফাঁদ পাতার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায় কি না। এসব আলোচনায় তিনি বারবার আবুধাবির শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের নাম উল্লেখ করেন।

নথিপত্রে আরও দেখা যায়, ওই দিন রাতেই এপস্টেইন অপর এক পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বার্তা পান, যার নাম নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। বার্তায় জানানো হয়, মোহাম্মদ বিন জায়েদ একটি জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেছেন এবং পরদিন সকালে সেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন–সংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠার নথি, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও প্রায় ২ হাজার ভিডিও প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ প্রকাশিত এসব নথিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ধনকুবের ইলন মাস্ক, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পুনরায় উঠে এসেছে।

এছাড়া নতুন নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক–এর নামও উল্লেখ রয়েছে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে