ঢাকা, শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

১ ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্ট মার্টিন নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত

২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১৮:৪০:৩৫
১ ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্ট মার্টিন নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগে প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারি এই মৌসুমের পর্যটন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। ফলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বীপে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। সাধারণত প্রতি বছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকলেও, এবার পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন সজিব জানান, ৩১ জানুয়ারি শেষ বারের মতো সেন্ট মার্টিন থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ পর্যটকদের নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচল করতে পারবে না। তবে সরকার পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে তার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পর্যটকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আলাউদ্দিন বলেন, “পর্যটক সীমিত রাখায় দ্বীপে ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার কমেছে, পরিবেশ দূষণ কমেছে এবং প্রবাল-কোরাল উত্তোলন নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। এটি সরকারের ভালো উদ্যোগ।”

তবে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ হামিদ বলেন, “পর্যটক বন্ধ হওয়ায় আমাদের পরিবারকে আবার মাছ ধরা বা অন্যান্য কাজে নির্ভর করতে হবে। ঋণও শোধ করতে পারিনি, দুশ্চিন্তায় আছি।”

সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান জানান, “অনেক ব্যবসায়ী বিনিয়োগের টাকা সময়মতো তুলতে পারেননি। এবার লোকসান হয়েছে। পর্যটক বন্ধ থাকায় আগামী মাসগুলোতে মানুষের কষ্ট বাড়বে।”

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল আলম বলেন, “দ্বীপের মানুষ পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। নয় মাসের জন্য পর্যটন বন্ধ হলে জীবিকা সংকটে পড়বে। তবে পরিবেশ রক্ষা জরুরি।”

স্থানীয় প্রশাসক ফয়েজুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ সময় পর্যটক না থাকায় সবাই হতাশ। সময়টা কিছুটা বাড়ানো গেলে স্থানীয়দের জন্য টিকে থাকা সহজ হতো।”

সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সৈকতে রাতের আলো, শব্দ, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। মোটরচালিত যান চলাচল, পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহনেও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সেন্ট মার্টিনে পর্যটন কার্যক্রম নয় মাসের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই সময় প্রাকৃতিক আবাস পুনরুদ্ধার হবে, প্রবাল ও সামুদ্রিক প্রাণী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে, এবং দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা হবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে