ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ব্যাংক সংস্কার নিয়ে গভর্নর ও ব্যবসায়ী নেতাদের পাল্টাপাল্টি যুক্তি

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ১৮:৫৯:৪৩
ব্যাংক সংস্কার নিয়ে গভর্নর ও ব্যবসায়ী নেতাদের পাল্টাপাল্টি যুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। মঙ্গলবার আইসিসি বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি মন্তব্য করেন, ওই সময় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ‘পাপেটের’ (পুতুল) মতো আচরণ করেছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, যখন ৬ থেকে ৯ শতাংশ সুদের হার জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তখন ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ না করে হাততালি দিয়েছিলেন এবং অর্থ পাচারের মহোৎসবের সময়ও তাঁরা নিশ্চুপ ছিলেন। গভর্নরের মতে, ব্যবসায়ীরা স্বচ্ছ না হলে দেশের অর্থনীতি কখনোই শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না।

এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনায় গভর্নর বলেন, বাংলাদেশকে তিনি আফগানিস্তানের মতো দুর্বল অর্থনীতির দেশের কাতারে দেখেন না; বরং থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার মতো সক্ষম দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তিনি স্পষ্ট জানান যে, স্বল্পমেয়াদী সুবিধার জন্য উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বরং মানবসম্পদ উন্নয়ন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে বড় সুযোগগুলো লুফে নিতে হবে। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য কেবল চমৎকার নীতিমালা থাকলেই চলবে না, সেই নীতি বাস্তবায়নের দক্ষতাও অর্জন করতে হবে।

বৈঠকে হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ মুদ্রানীতির কঠোরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শুধু সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় এবং এই কঠোর নীতির ফলে ইতিমধ্যে ১২ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বেসরকারি খাত ব্যাংক থেকে মাত্র ৬ শতাংশ ঋণ পেলেও সরকার নিয়েছে ২৭ শতাংশ। কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি না করে শুধুমাত্র মনিটারি পলিসি দিয়ে সংকট কাটানো সম্ভব নয় বলে তিনি নতুন সরকারের কাছে দাবিগুলো দ্রুত তুলে ধরার তাগিদ দেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের জবাবে গভর্নর স্বীকার করেন যে বর্তমানে সুদের হার বেশি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ২০-২৫ বিলিয়ন ডলার বের হয়ে যাওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে এবং এর ফলে আমানত প্রবৃদ্ধি এক সময় ৬ শতাংশে নেমে এসেছিল। তবে বর্তমানে আমানত প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা সুদের হার কমাতে সহায়ক হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ও তদারকি বাড়লে গ্রাহকের আস্থা ফিরবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুদের হার ও মূল্যস্ফীতি কমে আসবে।

ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে ড. মনসুর অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে জানান যে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন সংক্রান্ত আইনটি গত চার মাস ধরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বার্থান্বেষী মহল ও প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীগুলো সংস্কার কাজে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করতে এই আইনগুলো পাস হওয়া জরুরি। তা না হলে দেশ আবার সেই পুরনো দুর্নীতির গহ্বরে ফিরে যাবে। বর্তমান অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর সংস্কার এবং বাজারে পর্যাপ্ত ক্যাশ প্রবাহ নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ, যা সফল হলে শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে