ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

শোডাউন বাদ দিয়ে রাজনীতিতে নতুন ফর্মুলা করছেন তাসনিম জারা

২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ০৮:৫৯:০২
শোডাউন বাদ দিয়ে রাজনীতিতে নতুন ফর্মুলা করছেন তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা পোস্টার ও শোডাউন এড়িয়ে অভিনব কৌশলে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে ভিত্তি করে তিনি চালু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে একটি নতুন ক্যাম্পেইন উদ্যোগ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই প্রচারণা কৌশলের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পোস্টে ডা. তাসনিম জারা লেখেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাত্র দেড় দিনের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখেছেন। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, তাঁদের সন্তান বা আত্মীয় বিদেশ থেকে ফোন করে তাঁকে সমর্থন দিতে অনুরোধ করেছেন। এ অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন—রাজনীতিতে মানুষের আস্থাই সবচেয়ে বড় শক্তি, ভাড়া করা মিছিল বা উচ্চশব্দের মাইকিং নয়।

তিনি লেখেন, নির্বাচন কমিশন পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও অধিকাংশ প্রার্থী শহরজুড়ে পোস্টার টানিয়েছেন। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে পোস্টারের জঞ্জাল ও উচ্চশব্দের মাইকিং সবসময় তাঁকে বিরক্ত করত। সে কারণেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, পোস্টার ও উচ্চ শব্দের প্রচারণা করবেন না। যদিও এতে তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা শঙ্কিত ছিলেন এবং অনেকে এলাকায় গিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করতেন—তিনি আদৌ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন কি না।

ডা. তাসনিম জারা বলেন, এসব প্রশ্ন থেকেই তাঁরা ভাবতে শুরু করেন—দাপট না দেখিয়েও কীভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়। তাঁদের বিশ্লেষণে উঠে আসে, মানুষ ভোট দেয় বিশ্বাস থেকে। পরিচিত মানুষের আন্তরিক সুপারিশই হাজার পোস্টারের চেয়েও বেশি কার্যকর। এই ধারণা থেকেই ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’-এর জন্ম।

তিনি আরও লেখেন, এই মডেলের মাধ্যমে তাঁরা প্রমাণ করতে চান—কোটি টাকা খরচ, পোস্টারবাজি ও শোডাউন ছাড়াও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে পারেন। এতে ভবিষ্যতে অর্থ বা পেশিশক্তি না থাকলেও যোগ্য ও দেশ পরিবর্তনে আগ্রহী মানুষ রাজনীতিতে আসার সাহস পাবেন।

‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’-এর কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, প্রচারণাকে সহজ রাখতে এতে মাত্র দুটি ধাপ রাখা হয়েছে। সমর্থকদের প্রথমে শুধু পরিচিতদের ফোন করে সমর্থন চাইতে হবে। যারা আগ্রহী হবেন, তারা অনলাইনে জানাবেন কতজন ভোটারের সমর্থন সংগ্রহ করেছেন। এরপর তাঁদের কাছে ভোটার স্লিপ বা ইশতেহার পাঠানো হবে।

পোস্টের শেষাংশে ডা. তাসনিম জারা নাগরিকদের ‘ক্যাম্পেইনার’ হিসেবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, এই সমর্থন শুধু একটি ভোট নয়; বরং রাজনীতিতে একটি নতুন ধারা কার্যকর হবে কি না, তার পরীক্ষাও।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে