ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

১৮ কোম্পানিকে বিএসইসির লাল কার্ড; আর্থিক শৃঙ্খলাভঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি

২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ২৩:০৪:১৪
১৮ কোম্পানিকে বিএসইসির লাল কার্ড; আর্থিক শৃঙ্খলাভঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একের পর এক কোম্পানির আর্থিক নীতি লঙ্ঘনের ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৮টি হেভিওয়েট কোম্পানির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অসন্তোষ’ প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের নিয়মভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে মর্মে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে পাঠানো পৃথক চিঠিতে প্রকৌশল, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। আইন অনুযায়ী এসব কোম্পানির নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনিরীক্ষিত বা বার্ষিক আর্থিক বিবরণী দাখিল করার কথা থাকলেও তারা তা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। কমিশন এই দেরি হওয়াকে ‘ডিফল্ট’ এবং সিকিউরিটিজ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর তালিকায় রয়েছে-জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি, বিচ হ্যাচারি লিমিটেড, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, রবি আজিয়াটা পিএলসি, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পিএলসি, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি, এবি ব্যাংক পিএলসি, ফেডেরাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি এবং এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

বিএসইসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, আর্থিক তথ্য প্রকাশে বিলম্ব হলে বাজারে তথ্যপ্রবাহ বিঘ্নিত হয় এবং বিনিয়োগকারীদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেড়ে যায়। কোম্পানিগুলোর এমন খামখেয়ালিপনার কারণে যদি কোনো বিনিয়োগকারী বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেই দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকেই বহন করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের শৈথিল্য আর কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একসঙ্গে এতগুলো নামী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কমিশনের এই কঠোর অবস্থান শেয়ারবাজারের জন্য একটি শক্তিশালী সংকেত। বিশেষ করে আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলো যখন সময়মতো তথ্য দেয় না, তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বড় ধরণের ধাক্কা খায়। এই ধরণের পদক্ষেপ আগামী অর্থবছরগুলোতে কোম্পানিগুলোকে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাধ্য করবে। বাজারে স্বচ্ছতা ফিরে এলে সাধারণ মানুষের জমানো ক্যাশ বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং বাজারের প্রতি আস্থা সুসংহত হবে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে