ঢাকা, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ইসলামী ব্যাংকের ১০৯ কোটি টাকার ঋণ: বাস নেই দুই বছরেও

২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৫:২৭:২৯
ইসলামী ব্যাংকের ১০৯ কোটি টাকার ঋণ: বাস নেই দুই বছরেও

নিজস্ব প্রতিবেদক: দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনে একসময় আলোচিত-সমালোচিত এস আলম গ্রুপের বড় ব্যবসার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে গুরুতর আর্থিক অনিশ্চয়তা। গ্রুপটি সংকটে পড়ার প্রায় এক বছর আগে, বিদ্যমান প্রায় ২০০টি বাসের বহরে আরও ১৩৪টি বিলাসবহুল হিনো বাস যুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়। এই উদ্দেশ্যে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওজি ট্রাভেলস লিমিটেড ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর নাভানা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের সঙ্গে ১০৯ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকার একটি ক্রয়চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাসগুলো সরবরাহ দেওয়ার কথা থাকলেও দুই বছর পার হয়ে গেলেও একটি বাসও হাতে পায়নি ওজি ট্রাভেলস।

এই ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ওপর। কারণ, ওজি ট্রাভেলস ও আফতাব অটোমোবাইলসের মধ্যকার চুক্তির পুরো অর্থই বিনিয়োগ করেছিল ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখা। এর মধ্যেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান এবং সড়কে তাদের পরিচালিত বাসের সংখ্যা নেমে আসে শতকের নিচে। এতে ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত অর্থ আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ১৩৪টি বাস ক্রয়ের জন্য ওজি ট্রাভেলসের অনুকূলে ১০৯ কোটির বেশি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১০ মার্চ থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে আট দফায় আফতাব অটোমোবাইলসের হিসাবে মোট ৮৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ ছাড় করা হয়। কিন্তু বাস সরবরাহ না হওয়ায় এই বিপুল অর্থ কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

ঋণের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ইসলামী ব্যাংক গত ২৬ আগস্ট চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত-১–এ মামলা করে। মামলাটি নথিভুক্ত হয় ৫৮৪/২৫ নম্বরে। আদালতে দাখিল করা কাগজপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকের মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ৭৬১ টাকা। মামলায় ওজি ট্রাভেলস, এর চেয়ারম্যান গোফরানুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম আলীসহ এস আলম পরিবারের একাধিক সদস্যকে বিবাদী করা হয়েছে। একই সঙ্গে আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড ও প্রতিষ্ঠানটির চার পরিচালককেও আসামি করা হয়েছে।

গত ৯ নভেম্বর আদালত ৬০ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও অর্থ পরিশোধে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অর্থঋণ মামলার পাশাপাশি প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরেকটি ফৌজদারি মামলাও করেছে ইসলামী ব্যাংক, যার মামলা নম্বর ২৮৭৩। ব্যাংকের অভিযোগ, সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের পরও বাস সরবরাহ না করে ঋণগ্রহীতা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, সময়মতো বাস সরবরাহ হলে সেগুলো ব্যাংকের নামেই রেজিস্ট্রেশন করা হতো এবং ঋণের বিপরীতে কোল্যাটারাল সিকিউরিটি হিসেবে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকত। কিন্তু বাস না পাওয়ায় পুরো বিনিয়োগই এখন ঝুঁকিতে রয়েছে।

এসউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে