ঢাকা, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

যেভাবে দেশ ছেড়ে পালালেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মোমেন

২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ০৭:২১:০৭
যেভাবে দেশ ছেড়ে পালালেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.মোমেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দীর্ঘ ৮ মাস দেশের ভেতরেই অত্যন্ত গোপনে আত্মগোপনে ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক এমপি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে এক ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর এই দীর্ঘ অন্তরাল জীবনের রোমাঞ্চকর ও ভীতিজাগানিয়া বিবরণ তুলে ধরেছেন। ধরা পড়ার ভয় এবং মব জাস্টিসের হাত থেকে বাঁচতে তিনি শুধু বারবার অবস্থানই পরিবর্তন করেননি, নিজের চেহারাতেও এনেছেন আমূল পরিবর্তন। আমুদে স্বভাবের এই রাজনীতিবিদ জানান, গত এক বছরে তিনি ৬ বার মোবাইলের সিম বদলেছেন এবং চেনার উপায় না রাখতে বড় দাড়িও রেখেছিলেন।

নিজের পালিয়ে থাকার অভিজ্ঞতাকে একটি ‘সিনেমা’ বা ‘মুভি’র গল্পের সঙ্গে তুলনা করে ড. মোমেন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক কয়েক দিন আগেই তিনি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছিলেন। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর এক সেনা কর্মকর্তা তাঁকে নিরাপত্তার জন্য সরে যাওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তিনি কোনো পরিচিত আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে না থেকে অপরিচিত রেন্ট হাউজ বা ভাড়াবাড়িতে আশ্রয় নেন।

এক ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, এক বাসার মালিককে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন বাসা কেন এত সুন্দর। মালিক জানিয়েছিলেন, এগুলো বিদেশি বায়ারদের জন্য রাখা হয়, কিন্তু দেশের পরিস্থিতির কারণে বায়ার না আসায় সেগুলো এখন খালি। সেখানেই ভাড়াটিয়া সেজে দিন কাটিয়েছেন তিনি।

পালিয়ে থাকার সময় চুলে নাপিত লাগানো বা বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি চরম সতর্কতা অবলম্বন করতেন। ড. মোমেন জানান, স্ত্রীর বুদ্ধিতে এবং চাপে শেষ পর্যন্ত তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে কীভাবে তিনি বাংলাদেশের সীমানা পার হলেন, তা নিয়ে এখনও রহস্য জিইয়ে রেখেছেন। তিনি সরাসরি কোনো বিমানবন্দর ব্যবহার করেননি বরং বিকল্প পথে পালিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে দেশ ছাড়তে খোদ সরকারি কিছু কর্মকর্তা বা ব্যক্তিরাই সাহায্য করেছেন। তবে সেই ব্যক্তিদের পরিচয় এবং পলায়নের পূর্ণাঙ্গ রুটটি এখনো বলার সময় আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় বা দুর্নীতি করেননি এবং কাউকে কোনোদিন জেলেও পাঠাননি, তাই তাঁর মনে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ছিল। তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতায় তিনি ‘লাস্টম্যান’ হিসেবে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তিনি আরও জানান, অনেক মানুষ তাঁর জন্য দোয়া করেছেন এবং ওমরাহ করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিরাপদ আছেন এবং সেখান থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

পরিশেষে ড. মোমেন জানান, তিনি নিজেকে একজন সাদাসিধে মানুষ হিসেবে দেখেন এবং দেশ যেন কোনোভাবেই জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর দেশ ছাড়ার এই পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন হলো, তা ভবিষ্যতে কোনো এক সময় বিস্তারিত বলবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে