ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

দুর্নীতির দায়ে বিএসইসি পরিচালকের বাধ্যতামূলক অবসর

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৬ ২৩:১৩:৩৯
দুর্নীতির দায়ে বিএসইসি পরিচালকের বাধ্যতামূলক অবসর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া পরিচালক আবু রায়হান মোহাম্মদ মুতাসিম বিল্লাহকে 'বাধ্যতামূলক অবসরে' পাঠিয়েছে। বিভাগীয় তদন্তে অসদাচরণ ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় কমিশনের ৯৯১তম সভায় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আবু রায়হান মুতাসিম বিল্লাহর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল—একটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে কমিশনকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান, অগ্রিম তহবিলের অপব্যবহার এবং কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিল জমা দেওয়া।

তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব বিষয় দেখা যায়:

ভুয়া বিল: ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ইট, বালু, রড ও সিমেন্ট ক্রয়ের নামে ৯টি ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ৪০.৭৩ লাখ টাকার ভুয়া বিল জমা দেন তিনি। অথচ বাস্তবে কোনো নির্মাণ কাজই হয়নি।

মিথ্যা তথ্য: গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে, নকশা অনুযায়ী পাঁচতলা ভবনের ভিত্তি ও প্রথম তলার কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি কমিশনের পরিদর্শন দল নির্ধারিত প্লটে গিয়ে কোনো ভবনের অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি।

তহবিল আত্মসাৎ: অভ্যন্তরীণ অডিট অনুযায়ী, তিনি গৃহনির্মাণ বাবদ নেওয়া ঋণের অতিরিক্ত ৬০.৯৯ লাখ টাকা এবং ৯.৪৫ লাখ টাকা সুদ ফেরত দেননি। এছাড়া ভবন নির্মাণের জন্য নেওয়া আরও ২৫ লাখ টাকাও তিনি জমা দেননি।

গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বর মাসে কমিশনের ৯৭২তম সভায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে একজন নির্বাহী পরিচালককে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৭ নভেম্বর জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর অভিযোগগুলো (অসদাচরণ) সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আবু রায়হানের দাখিল করা আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় ৯ ডিসেম্বর তাকে বড় শাস্তির বিষয়ে দ্বিতীয় শোকজ করা হয়। গত ২৯ ডিসেম্বরের জবাবেও তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন।

বিএসইসি-র ৯৯১তম সভায় বিস্তারিত পর্যালোচনার পর তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে সরাসরি বরখাস্ত বা অপসারণ করার সুযোগ থাকলেও, মানবিক দিক এবং আর্থিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে কমিশন তাকে 'বাধ্যতামূলক অবসর' দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। 'কমিশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১' অনুযায়ী এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে