ঢাকা, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
Sharenews24

মন্দার মধ্যেও পুরোনোকে ছাড়িয়ে নতুন ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড

২০২৬ মার্চ ০১ ১৭:৩২:০৯
মন্দার মধ্যেও পুরোনোকে ছাড়িয়ে নতুন ওপেন-এন্ডেড মিউচুয়াল ফান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত পাঁচ থেকে সাত বছরে চালু হওয়া অনেক মিউচুয়াল ফান্ড পুরোনো তহবিলগুলোর তুলনায় ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে বড় ধসের পর তুলনামূলক কম দামে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ কৌশল নেওয়ায় এসব নতুন তহবিল সুবিধা পেয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) এসব ফান্ড পরিচালনা করছে।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে শেয়ারবাজার নিম্নমুখী থাকলেও বেশ কয়েকটি ওপেন-এন্ডেড ফান্ড নিট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি)-তে ভালো রিটার্ন দিয়েছে। ইকুইটির পাশাপাশি তহবিলের বড় অংশ সরকারি সিকিউরিটিজ ও অন্যান্য স্থির আয়ের যন্ত্রে বিনিয়োগ করায় সম্পদ ব্যবস্থাপকরা মুনাফা করতে সক্ষম হন।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় এজ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত ‘এজ এএমসি গ্রোথ ফান্ড’। ২০১৯ সালের আগস্টে চালু হওয়া এই ওপেন-এন্ডেড ফান্ডটি ২০২৫ সালে ১৯.৪০ শতাংশ রিটার্ন দেয়। অথচ একই বছর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ শতাংশ কমে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে নেমে আসে।

অন্যদিকে ২০১১ সালের অক্টোবরে চালু হওয়া ওপেন-এন্ডেড ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ ২০২৫ সালে ৪.৪০ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ১৯.৩০ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন দেয়। অতীতের লোকসান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে না পারাই এ তহবিলের দুর্বল পারফরম্যান্সের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০১০-১১ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর বাজার স্থিতিশীল করতে রাষ্ট্রায়ত্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) ৫ হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক আকারে ‘বাংলাদেশ ফান্ড’ চালু করে। উদ্দেশ্য ছিল বাজারে তারল্য ও আস্থা ফেরানো। তবে নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ কিংবা বিনিয়োগকারীদের কাঙ্ক্ষিত মুনাফা দিতে পারেনি তহবিলটি। ২০১১-১২ অর্থবছরে আটটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি মিলে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ইউনিট কিনলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সাড়া পাওয়া যায়নি।

এজ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের চেয়ারম্যান আসিফ খান বলেন, গবেষণাভিত্তিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্তই তাদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। সঠিক সময়ে সম্ভাবনাময় শেয়ার বাছাই এবং সম্ভাবনাহীন শেয়ার এড়িয়ে চলার কৌশল নেওয়া হয়েছিল। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এজ ৭০ টাকায় বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ার কিনেছিল, যা সম্প্রতি ১৩০ টাকায় উন্নীত হয়েছে। আবার দরপতনের আগে কিছু মানসম্পন্ন শেয়ার বিক্রিও করা হয়েছে। এসব কৌশল ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে।

নতুন ফান্ড ম্যানেজাররা স্থির আয়ের সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিল চালু করেও ভালো ফল পেয়েছেন। ইকুইটি বাজারের পতনের প্রভাব এসব ফান্ডে পড়েনি; বরং সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে উচ্চ রিটার্ন এসেছে। যেমন, ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত ‘ভিআইপিবি ফিক্সড ইনকাম ফান্ড’ ২০২৫ সালে ২০.৭০ শতাংশ রিটার্ন দেয়। ১১ শতাংশের বেশি সুদে ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে অন্য ফিক্সড ইনকাম ফান্ডও ভালো করেছে।

অন্যদিকে পুরোনো অনেক তহবিল এখনো অতীতের অনিয়ম, জালিয়াতি ও লোকসানের ভার বহন করছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা রেস পরিচালিত কয়েকটি তহবিলে নানা অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে। রেসের ব্যবস্থাপনায় থাকা ওপেন-এন্ডেড ‘রেস স্পেশাল অপরচুনিটিজ ইউনিট ফান্ড’ ২০২৫ সালে ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে, যা পুরোনো তহবিলগুলোর দুর্বল অবস্থার প্রতিফলন।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে