ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

হাদি হত্যায় এক অভিযুক্তের ১৭ সিম উদ্ধার

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২২:৫৭:১৯
হাদি হত্যায় এক অভিযুক্তের ১৭ সিম উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মামলার এক অভিযুক্তের নামে ১৭টি সক্রিয় মোবাইল সিম পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জননিরাপত্তার স্বার্থে এক ব্যক্তির নামে সিম কার্ডের সংখ্যা কমিয়ে আনার জন্য বিটিআরসি-কে জোরালো তাগিদ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বৃহস্পতিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। একই বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে মোবাইল ফোনের শুল্ক ও কর কমানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, শহীদ হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সারা দেশে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। অপরাধীদের হাতে এত বিপুল সংখ্যক সিম থাকা তদন্ত প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে এবং অপরাধ সংগঠনের সুযোগ বাড়িয়ে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের প্রক্রিয়া (এনইআইআর) পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ কতটি সিম রাখতে পারবেন, সেই সীমা পুনর্বিন্যাসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হাদির ওপর হামলার পরপরই ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা তাঁর মৃত্যুর পর গত ১৯ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় রূপ নেয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘাতকদের গ্রেফতারে দেশজুড়ে দাবি ওঠে।

তদন্তের অগ্রগতি হিসেবে এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে প্রধান আসামির সহযোগী সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সালসহ মোট ৬ জন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি পিস্তল এবং সেই মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত আসামিদের স্বীকারোক্তি থেকে ঘটনার দিনের লোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে এবং আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ এখনো পলাতক রয়েছেন। পুলিশের ধারণা ছিল তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন, যদিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এক যুবক দাবি করেছেন তিনি দুবাইয়ে আছেন এবং খুনের সাথে জড়িত নন। সরকার এই মামলাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে মামলার চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।

সিরাজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে