ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

সঙ্কট কাটিয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর স্বস্তির যাত্রা

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ২২:২৮:০৩
সঙ্কট কাটিয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর স্বস্তির যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই স্বাভাবিক লেনদেনে ফিরেছে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাংকটির শাখাগুলোতে আমানতকারীদের টাকা উত্তোলন ও জমা দেওয়ার চিত্র দেখা গেছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে এখন থেকে একক ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক শাখায় ইতোমধ্যে আগের সাইনবোর্ড সরিয়ে নতুন ব্যাংকের ব্যানার ও নাম টাঙানো হয়েছে।

আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ স্কিম ঘোষণা করেছে, যার ফলে গ্রাহকরা আজ থেকে নগদ টাকা হাতে পাচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী, যেসব গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত রয়েছে, তারা পুরো টাকাই একবারে তুলতে পারবেন। আর যাদের আমানত ২ লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাস অন্তর সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে আগামী দুই বছরের মধ্যে তাদের সম্পূর্ণ অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ক্যানসার, কিডনি ডায়ালাইসিস রোগী এবং ৬০ বছরের বেশি বয়সী গ্রাহকদের চিকিৎসার প্রয়োজনে মানবিক বিবেচনায় এই সীমার বাইরেও টাকা তোলার বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং চুক্তি এখন থেকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে থাকবে। গ্রাহকদের আগের চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ বা অন্যান্য ব্যাংকিং নথিপত্র আপাতত বৈধ থাকবে, অর্থাৎ দ্রুত সেগুলো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। যারা এখনই তাদের জমানো টাকা তুলবেন না, তারা বাজারভিত্তিক মুনাফা পাবেন এবং প্রয়োজনে জমার বিপরীতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন। তবে স্থায়ী আমানতের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকা তোলা যাবে না।

নতুন এই ব্যাংকের জনবল কাঠামোর বিষয়ে জানানো হয়েছে, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা মামলা নেই, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ব্যাংকে যুক্ত হবেন। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ৪০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে বড় অংশ সরকার প্রদান করেছে এবং বাকিটা প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকে শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। তবে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল খাতের আমানতকে শেয়ারে রূপান্তর করা হবে না।

বিগত সরকারের আমলে শরীয়াহ ভিত্তিক এই ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা অনিয়মের মাধ্যমে তুলে নেওয়ায় এগুলো চরম তারল্য সঙ্কটে পড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫ অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগের পর এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। বর্তমানে এই ব্যাংকগুলোতে ৭৫ লাখ গ্রাহকের প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই সংস্কারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর পরিচালন ব্যয় কমাতে কর্মীদের বেতন ২০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং একই এলাকায় থাকা একাধিক শাখা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সালাউদ্দিন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে