ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
Sharenews24

ফেব্রুয়ারির ভোটেই কি ভাগ্য খুলবে বিনিয়োগকারীদের? যা বলছেন বিশ্লেষকরা

২০২৬ জানুয়ারি ০১ ১৯:২০:২০
ফেব্রুয়ারির ভোটেই কি ভাগ্য খুলবে বিনিয়োগকারীদের? যা বলছেন বিশ্লেষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদন: দীর্ঘদিন তলানিতে থাকার পর ২০২৬ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার এক শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামষ্টিক অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এই অগ্রযাত্রায় মূল ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

২০২৫ সালটি ছিল পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতার মধ্যে নানা নীতিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বছরটি পার হয়েছে। হংকং-ভিত্তিক গ্লোবাল ফান্ড ম্যানেজার 'এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ক্যাপিটাল' (এএফসি) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কয়েকটি কঠিন বছর পার করার পর ২০২৬ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে মোড় ঘুরিয়ে দেবে বলে আমরা আশা করছি।

এএফসি-র মতে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরলে তা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি কমে আসার সম্ভাবনা থাকায় সুদের হারও কমবে, যা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক হবে। স্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজ ইবিএল সিকিউরিটিজও এই মতের সাথে একমত পোষণ করে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি শিথিল করলে বাজারে তারল্য সংকট দূর হবে, যা বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে এবং কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের শেয়ারগুলোর দাম ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। অনেক ব্লু-চিপ এবং বহুজাতিক কোম্পানির শেয়ারের দাম তাদের গড় মূল্যের চেয়ে অনেক নিচে নেমে এসেছে। ২০২৫ সাল শেষে বাজারের সার্বিক মূল্য-আয় অনুপাত দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮.৬, যা আঞ্চলিক দেশগুলোর তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।

ব্র্যাক ইবিএল স্টক ব্রোকারেজের গবেষণা প্রধান সেলিম আফজাল শাওন বলেন, ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সংস্কারের কারণে বাজার প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি। তবে ২০২৬ সালে কেবল সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নতিই যথেষ্ট নয়, বাজারকে টেকসই করতে নতুন ভালো মানের শেয়ার এবং একটি উন্নত বাজার কাঠামো প্রয়োজন। তিনি আরও যোগ করেন, ব্যাংক খাতের দুর্বলতার কারণে ব্যবসায়ীদের অর্থায়নের যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হবে, তা পুঁজিবাজার পূরণ করতে পারে যদি সঠিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা যায়।

এদিকে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পাবলিক ইস্যু রুলস বা আইপিও বিধিমালা সংশোধনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে এনেছে। বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, সংশোধিত বিধিমালা অনুমোদিত হলে শক্তিশালী ট্র্যাক রেকর্ড থাকা কোম্পানিগুলো বাজারে আসতে উৎসাহিত হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে আলোচনা চলছে।

সার্বিকভাবে, রাজনৈতিক স্পষ্টতা, সুদের হার হ্রাস এবং নতুন আইপিও-র সম্ভাবনা ২০২৬ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমজে/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে