×
ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সদস্যপদ হারিয়ে ফেসবুক লাইভে তানজিন তিশার বিস্ফোরক বক্তব্য

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৮:৪৬:৫৩
সদস্যপদ হারিয়ে ফেসবুক লাইভে তানজিন তিশার বিস্ফোরক বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: শুটিং সেটে বিরোধ, মারধরের অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ। সংগঠনটির এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর ফেসবুক লাইভে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তানজিন তিশা। প্রায় ২৫ মিনিটের লাইভে গত কয়েক মাসের বিভিন্ন ঘটনা, শুটিং সেটে সহকর্মীর সঙ্গে বিরোধ এবং সংগঠনের সালিশ বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও বক্তব্য দেন এই অভিনেত্রী।

গত ৪ অক্টোবর পৃথক চিঠির মাধ্যমে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈকে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানায় অভিনয়শিল্পী সংঘ। তবে গত ৬ নভেম্বর রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানিয়েছেন, দুই অভিনেত্রীর মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।

সংগঠনটির পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ জুলাই সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে দুই অভিনেত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউই সেই নোটিশের জবাব দেননি। পরে সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় তাদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত সামনে আসার পর ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তানজিন তিশা। সেখানে তিনি বলেন, কাজ করতে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করে কাউকে হেয় করা বা তার পেশাগত ক্ষতি করা উচিত নয়।

গত এক বছরে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন অভিনেত্রী। ‘শাড়িকাণ্ড’সহ নানা ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ হোক বা কাল, সবকিছু সবার সামনে আসবে। আমি শুধু সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।’

গত মার্চে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং সেটে সামিয়া অথৈয়ের সঙ্গে বিরোধের ঘটনাও ফেসবুক লাইভে তুলে ধরেন তিশা। তার দাবি, সেদিন শুটিং সেটে কী ঘটেছিল, তা উপস্থিত ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ করেছেন।

নাটকের একটি দৃশ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিশা বলেন, দৃশ্যটি দেখলেই বোঝা যাবে কে কীভাবে অভিনয় করেছেন এবং কে ইম্প্রোভাইজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সে বিষয়েও দর্শকেরা দৃশ্যটি দেখে নিজেদের ধারণা করতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তানজিন তিশা জানান, শুটিং সেটের ঘটনার পর অভিনয়শিল্পী সংঘের উদ্যোগে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্য দীর্ঘ সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা ওই বৈঠকে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আলোচনার ভিত্তিতে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে লিখিত নোটিশও তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই পক্ষকে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভিডিও বার্তা পাঠাতে বলা হয়েছিল। তবে সামিয়া অথৈ ভিডিও বার্তা দেননি। বিশেষ কিছু কারণে তিনিও নির্ধারিত ভিডিও বার্তা পাঠাতে পারেননি বলে লাইভে উল্লেখ করেন তিশা।

অভিনয়শিল্পী সংঘের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না পাওয়ায় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে শুটিং সেটের বিরোধকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈয়ের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এখন সংগঠনগত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত গড়িয়েছে। অন্যদিকে ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তানজিন তিশা। তবে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং সংগঠনের সিদ্ধান্তই পুরো ঘটনা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

বিনোদন এর সর্বশেষ খবর

বিনোদন - এর সব খবর

উ
প
রে