×
ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সাবসিডিয়ারির ওপর নির্ভর করে ইউসিবি’র ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৬:৫২:৫৯
সাবসিডিয়ারির ওপর নির্ভর করে ইউসিবি’র ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পালাবদলের পর ব্যাংকটির পুরনো পরিচালনা পর্ষদের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে এলে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্ষদ ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে। নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ব্যাংকটির পুরনো ভাবমূর্তি উদ্ধার ও স্থবিরতা কাটিয়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সার্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংকটি এখনো কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেলেও ধীরে ধীরে ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছে।

২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকের আয়ের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ব্যাংকের আয়ে কিছু মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ২০২৫ সালের ৪ পয়সা থেকে সামান্য বেড়ে ২০২৬ সালে ৭ পয়সায় হয়। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) সহযোগী বা সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর চমৎকার পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে ইপিএস ৮ পয়সা থেকে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১৫ পয়সায় উন্নীত হয়। তবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এসে সাবসিডিয়ারি থেকে অবদান কমে যাওয়ায় ইপিএস ১৫ পয়সা থেকে কমে দাঁড়ায় ৪ পয়সায়। ফলে প্রথম ৯ মাসের সার্বিক হিসাবে ইপিএস আগের বছরের ৩২ পয়সার বিপরীতে কমে ২৬ পয়সায় নেমেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে ব্যাংকের মূল ব্যাংকিং ব্যবসা থেকে আয় বাড়াতে এখনো কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

তবে আয়ের টানাপোড়েনের মধ্যেও সম্পদের দিক থেকে ব্যাংকের অবস্থান যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ২৫ টাকা ৭১ পয়সা থেকে সামান্য ওঠানামা করলেও সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে বেড়ে ২৬ টাকা ৬০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা বছরের সর্বোচ্চ। সম্পদের ভ্যালু না কমে বরং বৃদ্ধি পাওয়াটা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নিশ্চিতভাবেই একটি বড় স্বস্তির সংবাদ। অন্যদিকে, নগদ অর্থের প্রবাহের (এনওসিএফবিএস) ক্ষেত্রে কিছুটা বড় ঘাটতি দেখা গেছে। প্রথম ৯ মাসে শেয়ার প্রতি নগদ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৫৮ পয়সায়। আমানত বৃদ্ধির তুলনায় ঋণ বিতরণ ও বিনিয়োগ বেশি হওয়া এবং নিট সুদের আয় কিছুটা কমে যাওয়াতেই মূলত হাতে নগদ টাকার টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

আর্থিক এই চ্যালেঞ্জগুলোর মাঝেও নতুন পর্ষদের অধীনে গ্রাহক আস্থায় কোনো চির ধরেনি, যার বড় প্রমাণ মিলছে আমানত ও গ্রাহক সংখ্যায়। ২০২৪ সালে ব্যাংকটি যেখানে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আমানত পায়, ২০২৫ সাল শেষে তা লাফিয়ে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যায়। একই সাথে ২০২৪ সালের ৩ লাখের মতো অ্যাকাউন্ট খোলার সংখ্যা ২০২৬ সালে এসে প্রায় ৬ লাখ অতিক্রম করেছে। পর্যাপ্ত আমানত সংগৃহীত হওয়ায় ব্যাংকটি ইতোমধ্যে তাদের আমানতের সুদের হারও কিছুটা কমিয়ে এনেছে। ব্যাংকটি টাকা ফেরত দিতে পারছে না এমন কোনো অভিযোগ উঠে আসেনি, বরং সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। অতীতের অনিয়মের ক্ষতি কাটিয়ে খুব অচিরেই ইউসিবি ব্যাংক আবার তাদের আগের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

মামুন/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে