×
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের মুনাফা ও নগদ প্রবাহে বড় উত্থান

২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৮:০৬:০৬
এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের মুনাফা ও নগদ প্রবাহে বড় উত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) এবং পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) বেড়েছে। আর্থিক ফলাফলে এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডসহ মোট ২০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। পাশাপাশি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অব্যবহৃত অর্থ ব্যয়ের মেয়াদ আরও ১৮ মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য উদ্যোক্তা ও পরিচালক ছাড়া অন্যান্য সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়ার সুপারিশ করেছে পরিচালনা পর্ষদ।

অর্থাৎ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ১ টাকা ক্যাশ ডিভিডেন্ড এবং প্রতি ১০০টি শেয়ারের বিপরীতে ১০টি বোনাস শেয়ার পাবেন। তবে এ ডিভিডেন্ড কার্যকর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।

কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ১২ কোটি ২৩ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৫টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ৪ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৪৯০টি শেয়ার। এসব শেয়ারের বিপরীতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাবেন না।

অন্যদিকে, সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে রয়েছে ৭ কোটি ২৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৫টি শেয়ার। এসব শেয়ারের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বাবদ মোট ৭ কোটি ২৫ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬৫ টাকা বিতরণ করতে হবে কোম্পানিটিকে।

শেয়ারপ্রতি আয় দ্বিগুণের বেশি

এদিকে, সমাপ্ত অর্থবছরে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

কোম্পানিটির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৬৮ পয়সা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৯ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বেড়েছে ২ টাকা ৫৯ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ১২৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যেও উন্নতি হয়েছে।

২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা ১৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্তসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৫৪ টাকা ৮ পয়সা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এই সম্পদমূল্য বেড়েছে ৪ টাকা ১০ পয়সা।

অন্যদিকে, পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত ছাড়া ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য হয়েছে ৪৪ টাকা ৯৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই সম্পদমূল্য ছিল ৪০ টাকা ৮৫ পয়সা। অর্থাৎ পুনর্মূল্যায়ন উদ্বৃত্ত ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৪ টাকা ১৩ পয়সা।

নগদ প্রবাহেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি

আলোচ্য অর্থবছরে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহেও বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কোম্পানিটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৬ টাকা ৫৩ পয়সা। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই নগদ প্রবাহ ছিল ১ টাকা ৬৬ পয়সা।

সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে ৪ টাকা ৮৭ পয়সা। শতাংশের হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

ফলে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির মুনাফা, নিট সম্পদমূল্য ও পরিচালন নগদ প্রবাহ—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

৩২ তলা ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বোনাস শেয়ারের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা

এদিকে, ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণার পেছনে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ।

কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি ৩২ তলাবিশিষ্ট বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণে অর্থায়ন সহায়তার জন্য বোনাস শেয়ার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

পাশাপাশি কোম্পানিটির কারখানা ভবনের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ, ডিপো এবং প্রশাসনিক ভবনের নির্মাণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমেও অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া মূলধনি যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং ব্যবসার পরিচালন মূলধনের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যেও বোনাস শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত মুনাফা বা রিটেইনড আর্নিংস থেকে দেওয়া হবে।

এ ক্ষেত্রে মূলধনি সংরক্ষিত তহবিল, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন সংরক্ষিত তহবিল কিংবা কোনো অবাস্তবায়িত মুনাফা থেকে স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার দেওয়া হবে না।

একইভাবে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগের কোনো মুনাফা থেকে কিংবা পরিশোধিত মূলধন কমিয়ে স্টক ডিভিডেন্ড বা বোনাস শেয়ার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়নি।

এ ছাড়া বোনাস শেয়ার দেওয়ার ফলে ডিভিডেন্ড-পরবর্তী সংরক্ষিত মুনাফা যাতে ঋণাত্মক বা ডেবিট স্থিতিতে পরিণত না হয়, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।

আইপিওর অব্যবহৃত প্রায় ৬৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব

অন্যদিকে, প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের অব্যবহৃত অংশ ব্যবহারের সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের পরিচালনা পর্ষদ।

কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, আইপিও তহবিলের অব্যবহৃত অর্থের পরিমাণ ৬৪ কোটি ৯৩ লাখ ৮২ হাজার ৫২৯ টাকা।

এই অর্থ ব্যবহারের জন্য ২০২৬ সালের ৬ মার্চ থেকে কমপক্ষে আরও দেড় বছর বা ১৮ মাস সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পরিচালনা পর্ষদ।

তবে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনসাপেক্ষ।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, অব্যবহৃত আইপিও তহবিল গাজীপুরের টঙ্গীতে কারখানা ভবন নির্মাণ এবং নতুন প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতি ক্রয় ও স্থাপনের কাজে ব্যবহার করা হবে।

এ ক্ষেত্রে আইপিওর অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে বিএসইসির ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দেওয়া অনুমোদনপত্রের শর্তাবলি অনুসরণ করা হবে।

অর্থাৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর জন্য আইপিওর অব্যবহৃত অর্থ ব্যয়ের অতিরিক্ত সময় পাবে কোম্পানিটি।

এজিএম ২৪ ডিসেম্বর, রেকর্ড তারিখ ২৪ নভেম্বর

এদিকে, ঘোষিত ডিভিডেন্ড অনুমোদনসহ অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) তারিখ নির্ধারণ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ।

কোম্পানিটির ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভাটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজন করা হবে। তবে সভার নির্দিষ্ট স্থান পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণ এবং বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের জন্য আগামী ২৪ নভেম্বর ২০২৬ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

সার্বিকভাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের শেয়ারপ্রতি আয় দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে নিট সম্পদমূল্য ও পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ক্যাশ ও স্টক ডিভিডেন্ডের সুপারিশ এবং নতুন ভবন নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয় ও আইপিও তহবিল ব্যবহারের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ কোম্পানিটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উঠে এসেছে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর

উ
প
রে