×
ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

দুই দফায় ই-টেন্ডার, তবুও ‘ক্যানসেলড’!

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১১:৪৯:২৭
দুই দফায় ই-টেন্ডার, তবুও ‘ক্যানসেলড’!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারিগরি জটিলতার অভিযোগ উঠেছে। দুই দফায় দরপত্র আহ্বান করেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় সাধারণ ঠিকাদারদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, নতুন অর্থবছরের কেনাকাটা সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ায় হাসপাতালে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কেনার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনলাইন ব্যবস্থার সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রথম দফার দরপত্র বাতিল করা হয়। পরে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবারও ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় দফাতেও একই ধরনের কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়। ফলে দরপত্রে অংশ নিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন ঠিকাদাররা।

দরপত্রে অংশ নিতে না পারার অভিযোগ

মাদারীপুরের ঠিকাদার মাসুদ সরদার জানান, গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে ‘ক্যানসেলড’ লেখা দেখা যাচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার দরপত্রেও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার কারণ শনাক্ত এবং কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই ঠিকাদার। তবে কারিগরি সমস্যাটি কী কারণে ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

ওষুধের মজুত কমে আসায় বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনা ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত প্রায় শেষ হয়ে আসছে। নতুন অর্থবছরের কেনাকাটা সময়মতো সম্পন্ন না হওয়ায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এতে রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

‘নিরাপদ চিকিৎসা চাই’ মাদারীপুর শাখার সভাপতি আইনজীবী মশিউর রহমান পারভেজ বলেন, হাসপাতালে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। পরপর দুই দফায় দরপত্র প্রক্রিয়ায় একই ধরনের সমস্যা কেন দেখা দিল, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার দাবি জানান।

দ্রুত সমাধানের আশ্বাস, তবে নেওয়া হয়নি আইনি পদক্ষেপ

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. অখিল সরকার জানান, দুই দফায় দরপত্র আহ্বান করা হলেও কারিগরি সমস্যার কারণে কেনাকাটার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে রোগীদের বিনা মূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. খলিলুজ্জামানও দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারিগরি সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, জেলা সিভিল সার্জন মো. শরীফুল আবেদীন কমল ১৫ দিনের ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর ছুটি শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। নিয়মিত সিভিল সার্জন মো. শরীফুল আবেদীন কমলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রায় ৯ কোটি টাকার এই দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারিগরি সমস্যার প্রকৃত কারণ কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দরপত্রে অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং দ্রুত চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ব্যবস্থা নেওয়া এখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে