×
ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

যেসব প্রতিষ্ঠান ডলার সংরক্ষণ করতে পারবে

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১০:৩২:১৮
যেসব প্রতিষ্ঠান ডলার সংরক্ষণ করতে পারবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ডসহ অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থায় পণ্য ও সেবা বিক্রির মাধ্যমে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের হিসাবে সংরক্ষণ করতে পারবে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিপণি-বিতান ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ বাধ্যতামূলকভাবে টাকায় রূপান্তর করতে হবে। সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার করা যাবে বৈধ বৈদেশিক দায় পরিশোধে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-২ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। দেশের সব অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংককে এ নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার আওতায় রয়েছে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, বিপণি-বিতান, খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রসহ অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক কার্ড বা অনুমোদিত অন্য পরিশোধ ব্যবস্থায় পণ্য ও সেবা বিক্রির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করলে এসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমার মধ্যে তা সংরক্ষণ করতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মোট বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে রাখতে পারবে। বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ টাকায় ভাঙাতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ক্রেতার কাছ থেকে ১ হাজার ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করলে সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার সংরক্ষণ করতে পারবে। অবশিষ্ট ৮৫০ ডলার সমপরিমাণ অর্থ টাকায় রূপান্তর করতে হবে।

নতুন নিয়মে সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রা ইচ্ছামতো যেকোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব অর্থ চলতি হিসাবের আওতাভুক্ত বৈধ বৈদেশিক দায় পরিশোধে ব্যবহার করতে হবে। আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে করা অনুমোদিত পরিশোধও এর আওতায় থাকতে পারে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ওপর প্রযোজ্য কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) যথাযথভাবে আদায় এবং সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলেও কর ও অন্যান্য সরকারি পাওনা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও লেনদেন যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে। আন্তর্জাতিক কার্ড এবং অন্যান্য অনুমোদিত পরিশোধ ব্যবস্থায় লেনদেন গ্রহণের উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। লেনদেনের ধরন, অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

বিদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে আয় করা বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ সংরক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈধ বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনা সহজ হতে পারে।

বিশেষ করে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সংরক্ষিত অর্থ দিয়ে নির্ধারিত বৈদেশিক দায় পরিশোধ করতে পারবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কিছুটা নমনীয়তা আসতে পারে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় বিভিন্ন বৈধ লেনদেনের বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হলো।

নতুন নির্দেশনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে অবহিত করার জন্য অনুমোদিত ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে