×
ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

টিন সার্টিফিকেট ছাড়া মিলবে না সেবা, জেনে নিন পুরো তালিকা

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:২৯:১২
টিন সার্টিফিকেট ছাড়া মিলবে না সেবা, জেনে নিন পুরো তালিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বিভিন্ন আর্থিক, ব্যবসায়িক, সম্পত্তি ও দাপ্তরিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন (TIN) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাংকঋণ নেওয়া, জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স এবং সরকারি দরপত্রে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত অনুযায়ী টিআইএন সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

টিআইএন হলো করদাতাকে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি নম্বর। বর্তমানে অনলাইনে ই-টিআইএন নিবন্ধনের মাধ্যমে এই নম্বর সংগ্রহ করা যায়। তবে সব সেবার ক্ষেত্রেই টিআইএন বাধ্যতামূলক নয়; সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা, লেনদেনের ধরন ও নির্ধারিত সীমার ওপর প্রয়োজনীয়তা নির্ভর করে।

আর্থিক ও ব্যাংকিং সেবা

ব্যাংকঋণ: নির্দিষ্ট সীমার বেশি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বা আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। ঋণের পরিমাণ ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী শর্ত ভিন্ন হতে পারে।

ক্রেডিট কার্ড: ক্রেডিট কার্ডের আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নীতিমালা ও আয়করসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী টিআইএন বা কর-সংক্রান্ত নথি চাওয়া হতে পারে।

এলসি বা ঋণপত্র: আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর ও ব্যাংকিং নথিপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

ডাকঘরের সঞ্চয়: নির্দিষ্ট সীমার বেশি অর্থের সঞ্চয়ী হিসাব বা আর্থিক সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী টিআইএন কিংবা আয়কর রিটার্নের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।

জমি, ফ্ল্যাট ও যানবাহনসংক্রান্ত সেবা

জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধন: নির্দিষ্ট ধরনের জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ক্রেতা বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির টিআইএন এবং আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব ধরনের জমি বা ফ্ল্যাট নিবন্ধনের নিয়ম এক নয়।

মোটরযান নিবন্ধন: গাড়ি বা নির্দিষ্ট শ্রেণির মোটরযান কেনা ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী টিআইএন বা কর-সংক্রান্ত কাগজপত্র লাগতে পারে।

ফিটনেস সনদ: মোটরযানের ফিটনেস সনদ গ্রহণ বা নবায়নের ক্ষেত্রে যানবাহনের ধরন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়। সব যানবাহনের জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

ব্যবসা ও পেশাগত কাজে টিআইএন

ট্রেড লাইসেন্স: ব্যবসার ধরন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নতুন ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা নবায়নের সময় টিআইএন কিংবা আয়কর রিটার্নের প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।

পেশাজীবীদের সনদ: চিকিৎসক, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের নিবন্ধন, সদস্যপদ বা পেশাগত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী কর-সংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে।

কোম্পানি ও অংশীদারি ব্যবসা: কোম্পানির পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হওয়া, ব্যবসা নিবন্ধন এবং নির্দিষ্ট ধরনের সমবায় বা অংশীদারি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী টিআইএন লাগতে পারে।

সরকারি দরপত্র: সরকারি বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট দরপত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন এবং আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হতে পারে।

নির্বাচন, বিবাহ নিবন্ধন ও অন্যান্য সেবা

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া: জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন বা কর-সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়ার শর্ত থাকতে পারে।

ক্লাবের সদস্যপদ: কিছু ক্লাব বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী টিআইএন বা আয়করসংক্রান্ত নথি চাওয়া হতে পারে।

বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে দায়িত্ব: কাজি বা বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে নিয়োগ, নিবন্ধন বা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

সন্তানের স্কুলে ভর্তি: কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভিভাবকের কাছ থেকে টিআইএন বা আয়করসংক্রান্ত তথ্য চাইতে পারে। তবে সব স্কুলে ভর্তির জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক নয়।

সরকারি চাকরি: নির্দিষ্ট পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। তবে বেতন বা এমপিওর অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদের প্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

অনলাইনে ই-টিআইএন করবেন যেভাবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইন ই-ট্যাক্স সেবার মাধ্যমে ই-টিআইএন নিবন্ধনের আবেদন করা যায়। আবেদন করার আগে নিজের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। নিবন্ধনের পর সনদটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করা যায়।

মনে রাখতে হবে, টিআইএন থাকলেই সব ক্ষেত্রে আয়কর দিতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। আবার টিআইএন নিবন্ধন করা এবং আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া দুটি আলাদা বিষয়। কোনো সেবা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা যাচাই করে নেওয়া উচিত।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে