×
ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের স্পষ্ট বার্তা

২০২৬ অক্টোবর ২৫ ২০:২৪:০৭
শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেলের স্পষ্ট বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে তার বিচার আইনি প্রক্রিয়ায় হতে হবে। কাউকে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা রয়েছে। তাই কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি আইন অনুযায়ী হওয়াই জরুরি।

টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে আইন অনুযায়ী তাঁর শাস্তি হবে। আবার কেউ অন্যায়ের শিকার হলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর নির্দোষিতা প্রতিষ্ঠার সুযোগও থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, সন্তানের ক্ষতি হলে মা-বাবার আবেগ ও প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক। তবে এ ধরনের ঘটনার সমাধান আইনি কাঠামোর মধ্যেই করতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ফলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটনার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শিক্ষকদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু-কিশোরেরা যেন নিজেদের অনিরাপদ মনে না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি শিক্ষকদের অভিভাবকসুলভ দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, এক বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে পুরো শিক্ষক সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো অভিযোগ উঠলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু জানায়নি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এরপর গত ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাঁকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ছড়িয়ে পড়া ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে মাদ্রাসার ভেতরে কয়েকজনকে ওই শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে শিক্ষককে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তিনি ‘চুমু’ শব্দটি উচ্চারণ করলে শিশুটির স্বজনদের একজন তাঁকে থাপ্পড় মারেন এবং পরে মারধর শুরু হয়। তবে ভিডিওতে থাকা বক্তব্য ও দৃশ্যের ভিত্তিতে অভিযোগের সব বিষয় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা যায় না; সে জন্য তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসাটিতে জড়ো হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে রয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে একদিকে শিশুর নিরাপত্তা ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে