×
ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

গ্রাহকের ৫০ হাজার টাকা উধাও, পরে ফেরত দিলেন ব্যাংক ম্যানেজার

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ২০:৪৩:৫০
গ্রাহকের ৫০ হাজার টাকা উধাও, পরে ফেরত দিলেন ব্যাংক ম্যানেজার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী রূপালী ব্যাংক শাখায় চেক ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে এক গ্রাহকের হিসাব থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর গত ১৯ অক্টোবর ওই গ্রাহককে টাকা ফেরত দিয়েছেন শাখা ব্যবস্থাপক মামুন। তবে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে জালিয়াতি হলো এবং ব্যবস্থাপক কেন নিজের উদ্যোগে টাকা ফেরত দিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

ভুক্তভোগী পারুল কালিশুরীতে বেসরকারি সংস্থা স্লোব-বাংলাদেশের কার্যালয়ে স্বল্প বেতনে চাকরি করেন। কষ্টে উপার্জন ও সঞ্চয় করা টাকা তিনি রাখতেন রূপালী ব্যাংকের কালিশুরী শাখায়। তার অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্যাংক হিসাব থেকে দুটি নতুন চেক ইস্যু এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।

পারুল জানান, হিসাব থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি জানার পর তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। তবে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও কোনো সমাধান পাননি। পরে গত ১৯ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ জমা দিলে শাখা ব্যবস্থাপক মামুন তাকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন।

পারুলের ভাষ্য, টাকা ফেরত দেওয়ার সময় ব্যবস্থাপক তাকে বলেন, ‘এই টাকা আমি নিজের কাছ থেকে দিয়েছি। এ নিয়ে জানাজানি হলে ব্যাংকের সুনাম নষ্ট হয়ে যাবে।’

তবে টাকা ফেরত পেলেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান ভুক্তভোগী। তার দাবি, শুধু টাকা ফেরত দিলেই হবে না, কীভাবে চেক ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করে টাকা তোলা হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও গ্রাহক এ ধরনের ঘটনার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন পারুল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ব্যবস্থাপক মামুন বলেন, ‘পারুলের টাকার ব্যাপারে সমাধান হয়ে গেছে।’ কীভাবে সমস্যার সমাধান হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, পারুলের ছেলে ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন এবং বিষয়টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে।

তবে পারুলের ছেলে টাকা তুলে থাকলে ব্যবস্থাপক কেন নিজের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিলেন—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি। পরে কথা বলবেন জানিয়ে ওই সময় চিকিৎসকের কাছে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী রূপালী ব্যাংকের জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মনজুর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগ, শাখা ব্যবস্থাপকের বক্তব্য এবং জোনাল অফিসের অবস্থানের মধ্যে এখনো বেশ কিছু প্রশ্নের নিষ্পত্তি হয়নি। টাকা উত্তোলনের প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনে তদন্ত হয়েছে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর

উ
প
রে