×
ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন: জামায়াতের ডাবল লাভ

২০২৬ অক্টোবর ২৩ ১২:০৩:৫৮
ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন: জামায়াতের ডাবল লাভ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীর রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেছে নিয়েছে দলটি। অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা উত্তরের জন্য আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ানকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ফলে দুই দলের প্রার্থীদের অবস্থান এবং ভবিষ্যতে কোনো সমঝোতা হয় কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

তবে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের প্রার্থী নিয়ে সমন্বিত সমঝোতা হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। জামায়াত ঢাকা দক্ষিণের জন্য ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপি দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান অনুযায়ী, আপাতত দুই সিটিতেই তাদের আলাদা প্রার্থী রয়েছে।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার একাধিক আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান পান ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ২১ হাজার ৬১৪।

ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এস এম খালিদুজ্জামান পান ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। এ আসনে ব্যবধান ছিল ৪ হাজার ৩৯৯ ভোট। অন্যদিকে, ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন; এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম পান ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট।

এসব ফলাফল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দলগুলোর নির্বাচনী সমর্থনের একটি চিত্র তুলে ধরে। তবে সংসদীয় আসনের ভোট সরাসরি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একইভাবে প্রতিফলিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। মেয়র নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, স্থানীয় সমস্যা, ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন, ভোটার উপস্থিতি এবং অন্যান্য প্রার্থীর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঢাকা-১১ থেকে ঢাকা-১৮সহ একাধিক সংসদীয় আসনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ঢাকা-১১ আসনের অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ২১, ২২, ২৩ এবং ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ড। সরকারি মানচিত্রে আসন ও ওয়ার্ডের এই ভৌগোলিক সম্পর্ক দেখানো হয়েছে।

তবে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড, সংসদীয় আসনের সীমানা এবং দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী ফলাফল একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হলে নির্বাচন কমিশনের নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করা প্রয়োজন। শুধু কয়েকটি আসনে জয় বা ভোটের ব্যবধানের ভিত্তিতে পুরো ডিএনসিসিতে কোনো দলের নিশ্চিত আধিপত্য রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। দলটির সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত সেপ্টেম্বরে প্রার্থীদের নাম প্রকাশের বিষয়ে কথা বলেছিলেন। পরে জামায়াতের প্রার্থী তালিকা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এনসিপি ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তরের জন্য দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ান এবং দক্ষিণের জন্য নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী ঘোষণা করে। ফলে উত্তর সিটিতে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে সমঝোতা হলে প্রার্থী প্রত্যাহার বা সমর্থনের বিষয়ে নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে এমন কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বিভিন্ন আসনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা থাকায় সিটি নির্বাচনেও দলগুলোর সংগঠন ও প্রার্থী বাছাইয়ের দিকে নজর থাকবে।

তবে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী শফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত প্রভাব নিয়ে দলীয় পর্যায়ে কী মূল্যায়ন রয়েছে, কিংবা জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে কোনো সমঝোতা হলে ভোটের সমীকরণ কীভাবে বদলাবে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রকাশ্য তথ্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থানীয় সরকারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রার্থীদের দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি যানজট, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক, নাগরিক নিরাপত্তা ও নগরসেবার পরিকল্পনাও ভোটারদের বিবেচনায় আসতে পারে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জামায়াতের সেলিম উদ্দিন ও এনসিপির আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ানের প্রার্থিতা। দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের সাদিক কায়েম এবং এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঘিরেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি চলছে। দলগুলোর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয় কি না এবং বিএনপি কাকে প্রার্থী করে—তা নির্বাচনী সমীকরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে