×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকটাই এমপি-মন্ত্রী হয়’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন স্পিকার

২০২৬ অক্টোবর ২২ ২১:০৪:০১
‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকটাই এমপি-মন্ত্রী হয়’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘সমাজের নিকৃষ্ট লোকেরাই এমপি-মন্ত্রী হয়’—নিজের দেওয়া এমন মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। তিনি জানিয়েছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন, অর্থের প্রভাব ও নির্বাচনী অনিয়মের পরিস্থিতি বোঝাতেই তিনি ওই মন্তব্য করেছিলেন।

ভোলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস কাজে লাগিয়ে ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের বিষয়েও কথা বলেন।

‘আওয়ামী লীগের আমলের পরিস্থিতি বোঝাতে চেয়েছি’

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে রাজনীতি ও নির্বাচনব্যবস্থায় এমন পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যেখানে সৎ, নিষ্ঠাবান ও নিরপেক্ষ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব কাজে লাগিয়ে অনেকে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সুবিধা পেয়েছেন। ফলে সমাজের সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে বিত্তশালী এবং প্রভাবশালীদের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ বেশি তৈরি হয়েছিল।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের রাজনীতিতে এ ধরনের পরিস্থিতির অবসান ঘটবে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে রাজনীতিতে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব কমিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনসমর্থনসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

নির্বাচনে অর্থের প্রভাব কমানোর আহ্বান

নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেজর হাফিজ বলেন, সংসদ নির্বাচনে শুধু বিপুল অর্থসম্পদের মালিক বা কালো টাকার অধিকারীদের প্রাধান্য থাকলে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তাই যাঁদের সততা, গ্রহণযোগ্যতা ও জনসমর্থন রয়েছে, কিন্তু নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সামর্থ্য নেই, তাঁদেরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দিতে হবে।

এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর নির্বাচনী কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, এমন ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, যাতে অর্থের প্রভাবের কারণে যোগ্য ও নীতিবান প্রার্থীরা নির্বাচনের বাইরে চলে না যান।

মেজর হাফিজ আরও বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।

ভোলার গ্যাস দিয়ে ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব

রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্ব দেন বিএনপির এই নেতা। তিনি জানান, ভোলার গ্যাসের মজুত ও সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি—বাপেক্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোলায় উল্লেখযোগ্য গ্যাসসম্পদ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় মজুত পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এই গ্যাস কীভাবে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

মেজর হাফিজ জানান, চীনের রাষ্ট্রদূত তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি ভোলায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানের একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব দেন। চীনা পক্ষ বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে সদর দপ্তরে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভোলার গ্যাসকে শিল্প উৎপাদনে কাজে লাগানো গেলে সার উৎপাদন বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গ্যাসের মজুত, সরবরাহের সক্ষমতা, বিনিয়োগ, অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের প্রসঙ্গ

দেশের জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানের বিষয়ে গভীর সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়ার কথাও তুলে ধরেন মেজর হাফিজ। তাঁর মতে, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে অনুসন্ধান ও উত্তোলনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

একই সঙ্গে তিনি ভোলার গ্যাসসম্পদের সুফল স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য, ভোলার গ্যাসের ওপর প্রথম অধিকার ভোলাবাসীর। অর্থাৎ, এই সম্পদ ব্যবহার করে শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় জনগণও যেন তার সুফল পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

রাজনীতি ও জ্বালানি উন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বক্তব্যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার, নির্বাচনে অর্থের প্রভাব কমানো এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। একই সঙ্গে ভোলার গ্যাসসম্পদ ব্যবহার করে শিল্পায়নের সম্ভাবনাও গুরুত্ব পেয়েছে।

একদিকে নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরির দাবি, অন্যদিকে প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রস্তাব—দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব রয়েছে। তাঁর বক্তব্যের এসব প্রস্তাব বাস্তবে কতটা এগোয়, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের ওপর।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর

উ
প
রে