×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

পাঁচ ধরনের জ্বরের লক্ষণ ও পার্থক্য এক নজরে

২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১৭:১৪:১২
পাঁচ ধরনের জ্বরের লক্ষণ ও পার্থক্য এক নজরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জ্বর হলেই সেটিকে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া ও টাইফয়েডের মতো রোগেও জ্বর দেখা দেয়। এসব রোগের কিছু লক্ষণ কাছাকাছি হলেও জ্বরের ধরন, ব্যথা, অন্যান্য উপসর্গ ও রোগের গতিপ্রকৃতিতে পার্থক্য রয়েছে। তাই লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি, তবে শুধু উপসর্গ দেখে নিশ্চিতভাবে রোগ নির্ণয় করা যায় না।

ডেঙ্গু: ডেঙ্গুতে সাধারণত হঠাৎ উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে রক্তপাত বা রক্তের প্লেটলেট কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দেয়। জ্বর কমে যাওয়ার পরও তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

ম্যালেরিয়া: ম্যালেরিয়ায় জ্বরের সঙ্গে কাঁপুনি, প্রচণ্ড ঠান্ডা লাগা, ঘাম এবং মাথাব্যথা হতে পারে। কখনো নির্দিষ্ট বিরতিতে জ্বর আসা-যাওয়ার ধরন দেখা যায়, যদিও সব রোগীর ক্ষেত্রে তা হয় না। ম্যালেরিয়া পরজীবীর সংক্রমণে হয় এবং দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। বিশেষ করে ম্যালেরিয়াপ্রবণ এলাকায় থাকা বা সেখান থেকে ফিরে আসার পর জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চিকুনগুনিয়া: এই রোগের প্রধান লক্ষণ হঠাৎ জ্বর ও তীব্র জয়েন্টের ব্যথা। হাত-পা, কবজি, গোড়ালি ও আঙুলের গাঁটে ব্যথা বা ফোলাভাব হতে পারে। পাশাপাশি মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে জয়েন্টের ব্যথা কয়েক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে।

টাইফয়েড: টাইফয়েডে জ্বর সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে এবং দীর্ঘ সময় স্থায়ী হতে পারে। এর সঙ্গে মাথাব্যথা, দুর্বলতা, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করলে এ রোগ হয়। সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হবে।

সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বর: সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বরে জ্বরের সঙ্গে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, শরীরব্যথা বা ক্লান্তি থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে উপসর্গ কমে আসে। তবে জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে, বাড়তে থাকলে কিংবা নতুন কোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

জ্বরের ধরন বা ব্যথার জায়গা দেখে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেলেও ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড ও অন্যান্য সংক্রমণের লক্ষণ একে অপরের সঙ্গে মিলে যেতে পারে। রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক রোগীর ইতিহাস, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন।

জ্বর হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও তরল গ্রহণ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডেঙ্গুর সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনজাতীয় ওষুধ খাবেন না, কারণ এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী কিংবা দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখবেন, জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, অচেতনতা বা বিভ্রান্তি, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি কিংবা রক্তপাত দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর

উ
প
রে