×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের যে দুই দেশে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ নেই

২০২৬ অক্টোবর ১৫ ০৯:৫৪:৪৯
বিশ্বের যে দুই দেশে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাম্পত্য জীবনে মতের অমিল, পারিবারিক জটিলতা কিংবা নানা বিরোধের কারণে অনেক দম্পতি আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে আইনগতভাবে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ থাকলেও ব্যতিক্রম রয়েছে ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটিতে। দেশ দুটিতে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি বিচ্ছেদ, বিয়ে বাতিল কিংবা বিয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে।

ফিলিপাইন: বিচ্ছেদ হলেও বহাল থাকতে পারে বিয়ে

ফিলিপাইনে সাধারণভাবে বিবাহবিচ্ছেদের আইন না থাকায় দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেলেও স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক বন্ধন বহাল থাকতে পারে। তবে দেশটিতে আইনি বিচ্ছেদ, বিয়ে বাতিল এবং বিয়েকে শুরু থেকেই অবৈধ ঘোষণার পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে।

আইনি বিচ্ছেদের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকার অনুমতি পেতে পারেন। কিন্তু এতে তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটে না। ফলে সাধারণভাবে তাঁরা অন্য কাউকে বিয়ে করতে পারেন না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে শারীরিক নির্যাতন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক কিংবা সঙ্গীকে পরিত্যাগ করার মতো কারণ দেখিয়ে আদালতে আইনি বিচ্ছেদের আবেদন করা যায়।

অন্যদিকে, বিয়ে বাতিল বা অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিয়ের সময় আইনগত শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা বিবেচনা করা হয়। আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিয়ের বৈধতা নির্ধারিত হয়।

তবে ফিলিপাইনের মুসলিম নাগরিকদের জন্য পৃথক পারিবারিক আইন রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এই আইনের আওতায় থাকা দম্পতিরা তালাক, খুলা কিংবা আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ পেতে পারেন। এ ছাড়া বিদেশে সম্পন্ন কিছু বিবাহবিচ্ছেদও নির্দিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ করলে ফিলিপাইনে স্বীকৃতি পেতে পারে।

ভ্যাটিকান সিটি: ক্যাথলিক ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রভাব

ভ্যাটিকান সিটিতে ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় আইন ও বিশ্বাসের কারণে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই। ক্যাথলিক ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, বৈধ ও পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন বিয়েকে সাধারণভাবে অবিচ্ছেদ্য বন্ধন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিয়ের শুরুতে ধর্মীয় আইনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়া কিংবা তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানেই বিয়েটি অবৈধ হয়ে যাওয়া নয়।

বিশেষ পরিস্থিতিতে দম্পতিরা আলাদা থাকতে পারেন। কিন্তু আলাদা থাকার কারণে তাঁদের বৈবাহিক বন্ধনের অবসান ঘটে না। ফলে আগের বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন করে বিয়ে করার সুযোগ থাকে না।

দুই দেশেই আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ

ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটিতে দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেলে স্বামী-স্ত্রীর সামনে কিছু আইনি বিকল্প থাকলেও সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ সীমিত বা অনুপস্থিত। ফিলিপাইনে আইনি বিচ্ছেদ ও বিয়ে বাতিলের ব্যবস্থা রয়েছে, আর ভ্যাটিকানে ক্যাথলিক ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিয়ের বৈধতা ও অবিচ্ছেদ্যতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে দেশ দুটিতে দাম্পত্য সম্পর্কের অবসান ঘটানো এবং নতুন করে বিয়ে করার ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিদেশে বসবাস শুরু করা বা অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেই আগের বিয়ের আইনি জটিলতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূর হয় না। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং আগের বিয়ের স্বীকৃতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হয়।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে