×
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মানচিত্র নিয়ে মুখোমুখি ভারত-চীন, বাড়ছে উত্তেজনা

২০২৬ অক্টোবর ১৫ ১১:২২:০৮
মানচিত্র নিয়ে মুখোমুখি ভারত-চীন, বাড়ছে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: লাদাখের ২৮টি সীমান্তবর্তী স্থানকে ভারতের সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতের এই পদক্ষেপকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং। চীনের দাবি, বিতর্কিত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তাই একতরফাভাবে এসব স্থানকে ভারতের অংশ হিসেবে মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর ভারতের সরকার লাদাখ প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি)-এর কাছাকাছি অবস্থিত ২৮টি কৌশলগত স্থানের নাম সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে। এসব স্থানের মধ্যে গোগরা ও হট স্প্রিংয়ের মতো সংবেদনশীল সীমান্তবর্তী এলাকাও রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য মানচিত্র তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও সুবিন্যস্ত করা, স্থানগুলোর সরকারি স্বীকৃতি নিশ্চিত করা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো।

ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, বেইজিং একতরফাভাবে নির্ধারিত এবং আইনবহির্ভূত কোনো মানচিত্রকে স্বীকৃতি দেবে না। চীনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধের সমাধান হওয়া উচিত দুই দেশের আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে।

ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্তের বিভিন্ন অংশ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিশেষ করে পূর্ব লাদাখ অঞ্চল দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

২০২০ সালের জুনে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় ও চীনা সেনাদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। চীনের পক্ষ থেকেও চারজন সেনা নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। সংঘর্ষের পর সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে দুই দেশ একাধিক দফায় সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনা চালায়। কিছু এলাকায় সেনা প্রত্যাহার ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, লাদাখের ২৮টি স্থানকে সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত ওই অঞ্চলে নিজের প্রশাসনিক অবস্থান তুলে ধরতে চেয়েছে। অন্যদিকে, চীনের আপত্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সীমান্তের ভৌগোলিক অবস্থান ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য এখনো গভীর। তবে এই পদক্ষেপের ফলে সীমান্তে পরিস্থিতি কতটা প্রভাবিত হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক অবস্থান ও আলোচনার ওপর।

ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত বিরোধের পাশাপাশি বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে লাদাখের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে তা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর

উ
প
রে