×
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুশাসন ফেরাতে নিজেদের নিয়ম বদলাচ্ছে এনসিসি ও এসবিএসি ব্যাংক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১৪:০৪:৩৬
সুশাসন ফেরাতে নিজেদের নিয়ম বদলাচ্ছে এনসিসি ও এসবিএসি ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যাংক খাতে সুশাসন ও পরিচালনা কাঠামো শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার উদ্যোগের পাশাপাশি নিজেদের ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনছে কিছু ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদে নেতৃত্ব নির্বাচন ও চেয়ারম্যান পদ নিয়ে সম্ভাব্য দ্বন্দ্ব কমাতে নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক। একই সময়ে স্বতন্ত্র পরিচালককে চেয়ারম্যান করে পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে পরিবর্তন এনেছে নতুন প্রজন্মের এসবিএসি ব্যাংক।

দুই বছরের বেশি সময় ধরে ব্যাংক খাতে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনিয়ম ঠেকাতে বিভিন্ন নীতিমালা জারির পাশাপাশি ব্যাংকের পরিচালকদের যোগ্যতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) জন্য ১০০ নম্বরের মূল্যায়ন কাঠামোও নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর বাইরে এক ডজনের বেশি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক ও পর্যবেক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। তবে কিছু ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগের পাশাপাশি নিজেদের ব্যবস্থাপনা কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। ব্যাংকগুলোর মতে, পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্ব নিয়ে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা ও দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তা ব্যাংকের কার্যক্রম এবং ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এনসিসি ব্যাংক সম্প্রতি চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতাভিত্তিক রোটেশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যাংকটির ১২তম বিশেষ সাধারণ সভায় সংঘবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেলে আগামী অক্টোবর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে।

নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা শেয়ারধারী পরিচালক পর্যায়ক্রমে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাবেন। অর্থাৎ পরিচালনা পর্ষদের শেয়ারধারী পরিচালকেরা জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একে একে চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে চেয়ারম্যান পদকে কেন্দ্র করে পরিচালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমান চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হলে বা কোনো কারণে পদটি খালি হলে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শেয়ারধারী পরিচালক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার যোগ্য হবেন। দুই বা ততোধিক পরিচালকের দায়িত্বের মেয়াদ সমান হলে বয়সের ভিত্তিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।

তবে কোনো জ্যেষ্ঠ পরিচালক লিখিতভাবে চেয়ারম্যান হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে পরবর্তী জ্যেষ্ঠ শেয়ারধারী পরিচালক দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কোনো পরিচালক নিজের ক্রমানুযায়ী চেয়ারম্যান হতে রাজি না হলেও শুধু এ কারণে তাঁর পরিচালক পদে থাকার ক্ষেত্রে বাধা থাকবে না। তবে পরে চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ পেতে হলে বিদ্যমান পরিচালকদের পর্যায়ক্রমিক মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতে হবে।

এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুন নেওয়াজ সেলিমের ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যানের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী চেয়ারম্যান হওয়ার আগ্রহকে কেন্দ্র করে পরিচালকদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে চেয়ারম্যান নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা কমবে এবং পরিচালকেরা ব্যাংকের কার্যক্রমে বেশি মনোযোগ দিতে পারবেন।

অন্যদিকে, এসবিএসি ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে একজন স্বতন্ত্র পরিচালককে দায়িত্ব দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকারকে এক বছরের জন্য চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়েছে। ব্যাংকটির শেয়ারধারী পরিচালকেরাই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এসবিএসি ব্যাংকের অধিকাংশ বর্তমান পরিচালক ব্যবসায়ী হওয়ায় তাঁরা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী ছিলেন না। আবার চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী কয়েকজনকে নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে ঐকমত্যও তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে স্বতন্ত্র পরিচালককে চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এসবিএসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মাকছুদুর রহমান সরকার বলেছেন, ব্যাংকের পরিচালনা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই শেয়ারধারী পরিচালকেরা তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের পরিচালনা ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন একটি ধারা তৈরির চেষ্টা করা হবে।

এনসিসি ব্যাংকের সংশোধিত ব্যবস্থায় নতুন ও মনোনীত পরিচালকদের ক্ষেত্রেও জ্যেষ্ঠতার নিয়ম প্রযোজ্য হবে। পরবর্তী সময়ে কোনো সাবেক পরিচালক আবার পর্ষদে যুক্ত হলে তাঁকেও নতুন পরিচালক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কোনো পরিচালক অবসরের বয়সে পৌঁছালে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে পুনরায় পরিচালক নির্বাচিত হলে তিনি নির্ধারিত চেয়ারম্যানের মেয়াদ পূরণ করতে পারবেন।

এ ছাড়া চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনে অক্ষম হয়ে পড়লে অথবা তাঁর কার্যক্রমে ব্যাংকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে হলে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তিসংগত সুযোগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এরপর পরিচালনা পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তাঁকে পদ থেকে সরানোর সুযোগ থাকবে।

এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংক দুটি পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা, সুশাসন ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এনসিসি ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন পদ্ধতি কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এখনো গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও পরবর্তী বাস্তবায়নের ওপর।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

অর্থনীতি এর সর্বশেষ খবর

অর্থনীতি - এর সব খবর



রে