×
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি কোম্পানির আর্থিক চিত্রে বড় ধাক্কা, লোকসানে ১২টি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১১:১৪:৪৯
সরকারি কোম্পানির আর্থিক চিত্রে বড় ধাক্কা, লোকসানে ১২টি

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে সরকারি কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারের গভীরতা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত সরকারি ও সরকার-নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ আর্থিক চিত্রে ভিন্ন বাস্তবতা উঠে এসেছে। বর্তমানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে সরকারি কোম্পানি রয়েছে ২০টি। এর মধ্যে সর্বশেষ প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী ১২টি বা ৬০ শতাংশ কোম্পানি লোকসানে রয়েছে।

লোকসানে থাকা এসব কোম্পানির কেউই সর্বশেষ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেয়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। সরকারি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ভালো ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানকে বাজারে এনে মানসম্মত কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানো। তবে তালিকাভুক্ত সরকারি কোম্পানিগুলোর আর্থিক পারফরম্যান্সে একদিকে যেমন বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে, অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত মুনাফা ও ডিভিডেন্ড দিয়ে ইতিবাচক উদাহরণও তৈরি করছে।

সরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল ও পদ্মা অয়েল নিয়মিত মুনাফা করার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য ডিভিডেন্ড দিচ্ছে। সর্বশেষ অর্থবছরে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৬১ টাকা ৩৯ পয়সা। কোম্পানিটি ২০০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ২০৬ টাকা ৩০ পয়সা। একই সময়ে যমুনা অয়েলের ইপিএস ছিল ৫৮ টাকা ৭০ পয়সা এবং ডিভিডেন্ড ১৮০ শতাংশ। ওই দিন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৭৬ টাকা ৩০ পয়সা।

পদ্মা অয়েলও সরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ভালো পারফরম্যান্স করা প্রতিষ্ঠানের একটি। সর্বশেষ অর্থবছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৭ টাকা ৩০ পয়সা এবং ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে ১৬০ শতাংশ। ১৬ সেপ্টেম্বর পদ্মা অয়েলের শেয়ারদর ছিল ১৯৩ টাকা ৮০ পয়সা। এ ছাড়া বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ইপিএস ২০ টাকা ১০ পয়সা এবং ডিভিডেন্ড ২৫ শতাংশ। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলের ইপিএস ১১ টাকা ১ পয়সা এবং ডিভিডেন্ড ৪০ শতাংশ। ন্যাশনাল টিউবসও ১ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি কোম্পানিগুলোর একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মধ্যে রয়েছে। জিলবাংলা সুগার মিলস, শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিয়া গ্লাস, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, বিডি সার্ভিসেস ও ন্যাশনাল টি-এর আর্থিক পরিস্থিতি বিশেষভাবে দুর্বল। এসব কোম্পানির ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়েও নিরীক্ষকদের পক্ষ থেকে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি আর্থিক সহায়তা ছাড়া ভবিষ্যতে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

লোকসানের দিক থেকে সবচেয়ে বড় চাপ দেখা যাচ্ছে জিলবাংলা সুগার মিলস ও ন্যাশনাল টি-এর ক্ষেত্রে। সর্বশেষ অর্থবছরে জিলবাংলা সুগার মিলসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭৮ টাকা ৮৭ পয়সা। ন্যাশনাল টি-এর শেয়ারপ্রতি লোকসান ১০৭ টাকা ৪৯ পয়সা এবং শ্যামপুর সুগার মিলসের লোকসান ৫০ টাকা ৭৭ পয়সা। এসব প্রতিষ্ঠান সর্বশেষ অর্থবছরে কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি।

এ ছাড়া পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা, ডেসকোর ৩ টাকা ১৫ পয়সা, ইস্টার্ন কেবলসের ৪ টাকা ৪৩ পয়সা, উসমানিয়া গ্লাসের ৫ টাকা ৩৪ পয়সা, রেনউইক যজ্ঞেশ্বরের ৭ টাকা ৭৬ পয়সা, তিতাস গ্যাসের ৭ টাকা ৮০ পয়সা এবং বিডি সার্ভিসেসের ৮ টাকা ৯৪ পয়সা। আইসিবির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৪ টাকা।

ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমনের মতে, সরকারি কোম্পানিগুলোর লোকসানের অন্যতম কারণ দুর্বল ব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করে বছরের পর বছর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল রাখা হয়েছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তার মতে, কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার আগে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনা যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু সরকারি কোম্পানির সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে লাভজনক ও দক্ষভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বাছাই করে বাজারে আনা এবং দুর্বল কোম্পানিগুলোতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বিনিয়োগঝুঁকিও কমতে পারে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে