×
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা দুই সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ১০:৩৮:৩৩
ঢাকা দুই সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী ঢাকা। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নির্বাচনের পর এবার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ভেতরে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, ভোটব্যাংক ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর অবস্থানও বিবেচনায় আসছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাও বাড়ছে। কেউ ব্যানার-ফেস্টুন, কেউ সভা-সেমিনার আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে দুই সিটির মেয়র পদে কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মো. আবদুস সালামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সময় নাগরিক সেবার পাশাপাশি সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল। তবে নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের ফলও আলোচনায় রয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর কয়েকটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা জয়ী হন। ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা জয় পান। ঢাকা-১২ আসনেও জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হন এবং ঢাকা-১১ আসনে জয় পান এনসিপির প্রার্থী।

কয়েকটি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ঢাকা-৪ আসনে জামায়াতের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বিএনপির তানভীর আহমেদের চেয়ে ২ হাজার ৯২০ ভোট বেশি পান। ঢাকা-৫-এ ব্যবধান ছিল ৯ হাজার ১৫০ ভোট। ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির শেখ রবিউল আলম ও জামায়াতের জসীম উদ্দীনের মধ্যে ব্যবধান ছিল ৩ হাজার ৩০০ ভোট। আর ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতের আব্দুল বাতেন বিএনপির আমিনুল হককে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটে হারান।

এই ফলাফলকে সামনে রেখে সিটি নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, স্থানীয় ভোটব্যাংক এবং সাধারণ ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থানও আলোচনায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময় ঘোষণা না করলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, সাংগঠনিকভাবে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে। তবে উপযুক্ত সময়ে তাদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

গণমাধ্যমে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তরে মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমের নাম এসেছে। ফলে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের হিসাবের সঙ্গে অন্য দলগুলোর প্রার্থী ও সাংগঠনিক অবস্থানও যুক্ত হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম এ কাইয়ুমের নাম আলোচনায় রয়েছে।

তাবিথ আউয়াল ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কারণে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নগর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।

এম এ কাইয়ুমও উত্তরের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের নেতা হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে তার সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে। তার অনুসারীদের একটি অংশ তাকে মেয়র পদে দেখতে চায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনটি নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে—ইশরাক হোসেন, বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

ইশরাক হোসেন ২০২০ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫১২ ভোট পেয়েছিলেন। এবারও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে তার নাম আলোচনায় রয়েছে।

বর্তমান প্রশাসক আব্দুস সালামেরও নগর প্রশাসনে অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড চেয়ারম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তার অনুসারীরা বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার-ব্যানারের মাধ্যমে প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

দক্ষিণের আরেক আলোচিত নাম হাবিব উন নবী খান সোহেল। ছাত্র ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতার দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তার অনুসারীরাও বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন।

দুই সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে মহানগর পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন পছন্দ রয়েছে। উত্তরে একাংশ তাবিথ আউয়ালের আগের নির্বাচনি অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, আবার অন্য অংশ এম এ কাইয়ুমের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকার কথা সামনে আনছে। প্রশাসক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে মিল্টনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

দক্ষিণে ইশরাক হোসেনের অনুসারীরা তার আগের সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ও তরুণ নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরছেন। আব্দুস সালামের সমর্থকেরা নগর প্রশাসনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর সোহেলের অনুসারীরা তার দীর্ঘদিনের দলীয় সাংগঠনিক ভূমিকার কথা সামনে আনছেন।

তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের পছন্দের পাশাপাশি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন জনবান্ধব ও নগর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অভিজ্ঞ প্রার্থী চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েলও এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং জনকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত নেতাকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো ঢাকা উত্তর বা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে কোনো প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। দলীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানিয়েছেন, সিটি নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে দলের হাইকমান্ডে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শেষ হয়নি এবং দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন অতীতে যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই হবে; তবে প্রশাসকদের ভূমিকা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ফলে ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চললেও এখনই কোনো নামকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের তফসিল, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পরবর্তী অবস্থানের ওপরই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী তালিকা নির্ভর করবে।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে