×
ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ফোন কি ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ে ব্যবহৃত হয়? যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১১:১৫:১৮
প্রধানমন্ত্রীর ফোন কি ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ে ব্যবহৃত হয়? যা বললেন তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত স্মার্টফোনের ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টার কাছে জানতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা। জবাবে তিনি ব্যক্তিগত ডিভাইসের গোপনীয়তা রক্ষা এবং কোনো তথ্য প্রকাশের আগে তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ফোন বা স্মার্টফোনে থাকা ছবি, ভিডিও কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য তার নিজস্ব গোপনীয়তার অংশ। এসব তথ্য অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে সংবাদ তৈরি বা প্রচার করা নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ডিভাইসে থাকা কোনো ছবি বা তথ্য কীভাবে গণমাধ্যমের হাতে এসেছে এবং সেটির প্রেক্ষাপট কী—তা যাচাই করা জরুরি।

প্রধানমন্ত্রীর ফোন ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয় কি না—এমন প্রশ্নের প্রসঙ্গেও সংবাদ সম্মেলনে আলোচনা হয়। এ ধরনের কোনো দাবি বা তথ্য প্রকাশের আগে সেটির সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে জোর দেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নীতি, সিদ্ধান্ত কিংবা কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যম প্রশ্ন তুলতে পারে এবং জনগণের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার অধিকার রয়েছে। তবে যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ করা বা ভুল তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে ‘ডিসইনফরমেশন’ বা অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়টিও উঠে আসে। তার দাবি, গত ছয় মাসে ম্যানেজার পর্যায়ের ৪৬৪টি অপতথ্যের মধ্যে ১৫৭টি প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ছিল এবং সেগুলো ভুল তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানের বিস্তারিত উৎস ও শ্রেণিবিন্যাস সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যে কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করা এবং সমালোচনা করা এক বিষয়; আর উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য বিকৃত করে প্রচার করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কোনো তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করলেও তার ব্যক্তিগত স্মার্টফোন, ব্যক্তিগত ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য সবসময় জনসাধারণের সম্পত্তি হয়ে যায় না। তাই ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে পাওয়া তথ্য সংবাদে ব্যবহারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা ও নৈতিকতার বিষয়টি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে মূলত দুটি বিষয় গুরুত্ব পায়—একদিকে সরকারি কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্ত নিয়ে গণমাধ্যমের প্রশ্ন করার অধিকার, অন্যদিকে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা। তথ্য উপদেষ্টা এ দুটির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে