×
ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমে নতুন বিশ্লেষণ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৫:৩২:৩১
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমে নতুন বিশ্লেষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। আগের সরকারের সঙ্গে ভারতের যে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিল, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্ক কীভাবে পুনর্নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে দুই দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা চলছে।

ভারতের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে গিয়ে বাস্তব স্বার্থ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, নদী ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত পরিস্থিতি, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। এসব বিষয়ে সমঝোতা ও সহযোগিতা যত বাড়বে, দুই দেশের সম্পর্কও তত বেশি স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সম্প্রতি ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকও দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে সামনে এনেছে। বৈঠকে সম্পর্কের বিদ্যমান জটিলতা কমিয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে অনুকূল ও আস্থার পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি। অতীতে সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য ও রাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মতপার্থক্য দেখা গেছে। ফলে নতুন পরিস্থিতিতে এসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই হবে উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত বা অভিন্ন নদী নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্তের পরিবর্তে যৌথ নদী কমিশনসহ বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোকে আরও কার্যকর করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নদীর পানিপ্রবাহসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান-প্রদান এবং নিয়মিত আলোচনা আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কও দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা থেকে শুরু করে আমদানি-রপ্তানি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলেও অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টি উপেক্ষা করা কঠিন।

এ কারণে দুই দেশের সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বা দূরত্বের দৃষ্টিতে না দেখে পারস্পরিক স্বার্থ, অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিক থেকেও বিবেচনা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্ব এবং ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ থাকলে বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যুতে সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন একটি পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে। অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তে ভবিষ্যতে সম্পর্ক কোন ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে, তা নির্ভর করবে পানি, সীমান্ত, বাণিজ্য ও নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশ কতটা বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক আলোচনা করতে পারে তার ওপর। একই সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে এনে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও হবে দুই দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

সালমান ফারসি/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

আন্তর্জাতিক এর সর্বশেষ খবর

আন্তর্জাতিক - এর সব খবর



রে