×
ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার ভারতকে একহাত নিলেন স্পিকার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২৩:৫২:২৭
এবার ভারতকে একহাত নিলেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা চুরি করে ফিলিপাইনে পাচারের ঘটনা তুলে ধরে কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার দেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে এবং বিদেশি সাহায্যের অর্থও চুরি করে পাচার করেছে।

আজ রোববার বিকেলে ভোলায় এক অনুষ্ঠানে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ফিলিপাইনে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা এখন সবাই কারাগারে থাকলেও, এই ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশের কারও কোনো বিচার হয়নি।

আক্ষেপ প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, "আমাদের...অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।" তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে জনগণের চাওয়া ছাড়াই অন্যায়ের বিচার হয়ে যায়, কিন্তু বাংলাদেশে বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও অপরাধের বিচার হয় না।

বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ৩৬০টি বাড়ির তথ্য

অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী লুটপাট করে দেশের সর্বনাশ করেছেন। এই সময় তিনি সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তাঁর একাই লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি পাওয়া গেছে, পাশাপাশি দুবাই ও আমেরিকাতেও তাঁর বাড়ি রয়েছে। স্পিকারের ভাষায়, এসব সম্পদ জনগণের টাকা লুণ্ঠন করেই গড়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনে এখনো তাদের অনেক লোক থাকায় প্রকৃত চিত্র জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

"বাংলাদেশ ভালো থাকুক চায় না ভারত"

প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক তা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না, বরং তারা বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৬-১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের চেয়ে প্রতিবেশী দেশের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে এবং এমন অনেক অসম চুক্তি করেছে যাতে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের একটি নিয়মের কথা উল্লেখ করেন—ভারতীয় জাহাজ বন্দরে এলে বাংলাদেশের নিজস্ব জাহাজসহ অন্য সব জাহাজকে বন্দর খালি করে দিতে হয়, আগে ভারতীয় পণ্য খালাস হওয়ার পরই স্থানীয় আমদানিকারকেরা তাদের জাহাজ খালাসের সুযোগ পান।

ট্রানজিট সংক্রান্ত শুল্ক নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে স্পিকার বলেন, "তারা (ভারত) অনেক মালামাল আমাদের ভূমির ওপর দিয়ে নিয়ে যায়। এই মালামালের জন্য যে শুল্ক দেওয়া উচিত, তা তারা সঠিকভাবে দেয় না। এখানে তারা বিনা শুল্কে কিংবা নামমাত্র শুল্কে তাদের পণ্য পরিবহন করছে, যেটা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সারা বিশ্বব্যাপী শুল্ক দিয়ে মালামাল নিতে হয়।"

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন তিনি, "আমাদের সীমান্তে প্রতিদিন তো লোক হত্যা করছে তারা। পাকিস্তানের সঙ্গেও তাদের বর্ডার আছে। ওইখানে তো কাউকে কোনো দিন গুলি চালানো হয় না।"

উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, হাসান মাকসুদুর রহমান, ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন জুলফিকার প্রমুখ।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে