×
ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঘরের ফ্যানই এবার ঠিক করবে সরকারের ভবিষ্যৎ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ১৮:০৬:৩০
ঘরের ফ্যানই এবার ঠিক করবে সরকারের ভবিষ্যৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সাম্প্রতিক সংকটের প্রভাব এখন শুধু শিল্পকারখানা বা ব্যবসা-বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সরাসরি চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পরিবার, কৃষক ও শিল্পশ্রমিকরা।

রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া অনেক পরিবারের জন্য নিয়মিত ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষও সমস্যায় পড়ছেন। কৃষিক্ষেত্রে সেচ ও অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মের প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানাতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন বন্ধ বা ধীরগতির হচ্ছে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে নির্ধারিত সময়ে পণ্য উৎপাদন ও শিপমেন্ট সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য এর অর্থ শুধু উৎপাদন কমে যাওয়া নয়; সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক লোকসানের ঝুঁকিও তৈরি হয়।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করে। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, যা শেষ পর্যন্ত ব্যবসার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের নিয়মিত ব্যয় ও অর্থ পরিশোধের পরও কেন সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, অতীতে নেওয়া বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আর্থিক ও কাঠামোগত প্রভাব এখনো বহন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে একক কোনো কারণকে দায়ী না করে উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা, চাহিদার ওঠানামা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধু অর্থনৈতিক বা অবকাঠামোগত বিষয় নয়, এটি সরকারের জনসমর্থনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। কারণ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ একটি মৌলিক নাগরিক সেবা।

সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন সংস্কার ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা কতটা দ্রুত সমাধান করা যাচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে গরমের সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়লে জনঅসন্তোষ দ্রুত তৈরি হতে পারে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের জন্য একই সঙ্গে অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে। বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ ও বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংকটের বিভিন্ন ছবি ও তথ্য প্রচার করছে। এসব প্রচারণার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সব তথ্য বা দাবিকে যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। বাস্তব সংকট যেমন অস্বীকার করার সুযোগ নেই, তেমনি রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্যও বিবেচনায় রাখা জরুরি।সরকারের জন্য সবচেয়ে কার্যকর জবাব হতে পারে বাস্তব পরিস্থিতির স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ সংকটের রাজনৈতিক ব্যাখ্যার চেয়ে সমস্যার বাস্তব সমাধানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারে স্বাভাবিক জীবনযাপন, কৃষিতে সেচ, শিল্পে উৎপাদন এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন।

সরকারের সামনে তাই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ—একদিকে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমানো, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে সংস্কার করা।

কারণ উন্নয়ন, সংস্কার কিংবা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের কার্যকারিতার অন্যতম দৃশ্যমান মাপকাঠি হলো—প্রয়োজনের সময় ঘরে বিদ্যুৎ আছে কি না।

মুয়াজ/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে