ঢাকা, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন বিতর্ক, সামনে এলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

২০২৬ জুলাই ০৮ ১২:১১:৫৭
হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন বিতর্ক, সামনে এলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে তার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে দণ্ডিত এবং পলাতক আসামি হিসেবে বিবেচিত শেখ হাসিনার দেশে ফিরলে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ হবে—সেই প্রশ্নে ভিন্নমত রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরতে আইনগত কোনো বাধা নেই। তিনি দেশে ফিরে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।

তার ভাষ্য, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বন্দি প্রত্যর্পণ ও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে দেশে আনার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি স্বেচ্ছায়ও দেশে ফিরতে পারেন।

তবে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ভিন্ন মত দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনার সরকারি (রেড) পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় বর্তমানে তার কাছে বৈধ ভ্রমণ দলিল নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে ফিরতে সরকারের কাছ থেকে ট্রাভেল পাস প্রয়োজন হতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ফিরে শেখ হাসিনাকে প্রথমে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। যেহেতু তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাই আত্মসমর্পণের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হতে পারে।এরপর তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ চাইতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। তবে অতীতে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও আদালত বিলম্বিত আপিল গ্রহণের নজির রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কয়েকজনের বিলম্বিত আপিল অতীতে গ্রহণ করেছে আপিল বিভাগ। সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার' নিশ্চিত করার নীতির ভিত্তিতে আদালত এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

একই মত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক। তার মতে, নির্ধারিত সময় পার হলেও আপিল গ্রহণ করা হবে কি না, সেটি আদালতের বিবেচনার বিষয়।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদের মতে, বৈধ পাসপোর্ট না থাকলে শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করতে হবে। ট্রাভেল পাস দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়টি সরকারের এখতিয়ার।

তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরেই আত্মসমর্পণ করলে শেখ হাসিনা বিলম্বিত আপিলের আবেদন করতে পারবেন। আদালত আপিল গ্রহণ করলে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত (স্টে) চেয়ে আবেদন করার সুযোগও থাকবে।

এদিকে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার পক্ষে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়। ওই চিঠিতে বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায্য বিচারের মানদণ্ডের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়।

তবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট আইন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে বিষয়টিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

জাতীয় এর সর্বশেষ খবর

জাতীয় - এর সব খবর



রে