ঢাকা, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে কোরআন-হাদিসের দিকনির্দেশনা

২০২৬ জুন ২৯ ১১:৩১:০৬
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে কোরআন-হাদিসের দিকনির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান বিশ্বে শেয়ারবাজার বিনিয়োগের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম। অনেক মুসলিমই জানতে চান—শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি না। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী এর উত্তর এক কথায় “হ্যাঁ” বা “না” দিয়ে দেওয়া যায় না। বরং এটি নির্ভর করে কোম্পানির ব্যবসার প্রকৃতি, লেনদেনের ধরন এবং শরিয়তসম্মত নীতিমালা অনুসরণের ওপর।

শেয়ার মূলত কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ, যা ইসলামী পরিভাষায় মুশারাকা (অংশীদারিত্ব)-এর আধুনিক রূপ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইসলাম শুরু থেকেই বৈধ ব্যবসায় অংশীদারিত্বকে অনুমোদন দিয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন,“তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা কর; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করো না।” (সুরা মায়িদাহ: ২)

আরও বলেন,“আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।” (সুরা বাকারা: ২৭৫)

এ থেকে বোঝা যায়, ব্যবসা মূলত বৈধ হলেও তা যদি সুদ বা হারাম কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ বৈধ হতে পারে যদি—

* কোম্পানির মূল ব্যবসা হালাল হয় (যেমন: কৃষি, প্রযুক্তি, ঔষধ, নির্মাণ ইত্যাদি)

* হারাম পণ্য উৎপাদন বা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত না থাকে

* সুদি লেনদেন বা অনৈতিক আর্থিক কার্যক্রম থেকে যথাসম্ভব মুক্ত থাকে

কারণ শেয়ার কেনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটির লাভ-লোকসানের অংশীদার হয়ে যান।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,“আল্লাহ যখন কোনো বস্তু হারাম করেন, তখন তার মূল্যও হারাম করে দেন।” (আবু দাউদ: ৩৪৮৮)

আরও একটি হাদিসে সুদের বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দেওয়া হয়েছে—সুদের সঙ্গে জড়িত সবাইকে রাসুলুল্লাহ (সা.) অভিশপ্ত বলেছেন, তারা সবাই সমান অপরাধী। (মুসলিম: ১৫৯৮)

আধুনিক ফিকহবিদদের মতে, বিশেষ করে মুফতি তাকী উসমানি (দা.বা.)-এর ব্যাখ্যায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ কিছু শর্তসাপেক্ষে বৈধ হতে পারে। যেমন—

* কোম্পানির মূল ব্যবসা হালাল হতে হবে

* সম্পদ শুধু নগদ নয়, বাস্তব সম্পদও থাকতে হবে

* সামান্য হারাম আয় থাকলেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে

* হারাম আয়ের অংশ থাকলে তা দান করে দিতে হবে (সওয়াবের নিয়ত ছাড়া)

বর্তমান শেয়ারবাজারে অনেক ক্ষেত্রে অনিয়ম, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সুদভিত্তিক লেনদেনের উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য শরিয়তসম্মত যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এ কারণে অনেক আলেম সতর্কতার সঙ্গে বলেন—যদি কোনো বিনিয়োগের বৈধতা নিশ্চিতভাবে জানা না যায়, তবে তা থেকে বিরত থাকাই উত্তম।

ইসলামের দৃষ্টিতে শেয়ারবাজারকে এককভাবে হালাল বা হারাম বলা যায় না। এটি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যবসা ও আর্থিক কাঠামোর ওপর। শরিয়তের শর্ত পূরণ হলে বিনিয়োগ বৈধ হতে পারে, অন্যথায় তা থেকে বিরত থাকা উত্তম। কারণ ইসলামে হালাল উপার্জন শুধু দুনিয়ার সফলতার নয়, আখিরাতের মুক্তিরও অন্যতম ভিত্তি।

মুসআব/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

ধর্ম ও জীবন এর সর্বশেষ খবর

ধর্ম ও জীবন - এর সব খবর



রে