ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বাজেটে শেয়ারবাজারবান্ধব পরিবর্তনের আভাস, বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত

২০২৬ জুন ২৭ ১৫:৫০:০৮
বাজেটে শেয়ারবাজারবান্ধব পরিবর্তনের আভাস, বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি বিষয়ে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বিশেষ করে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর কর আরোপের নতুন প্রস্তাব থেকে সরকার সরে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফলে বর্তমানে প্রচলিত ২০ শতাংশ করহার বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকে বাজেটের কয়েকটি প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির লভ্যাংশ আয়ের ওপর কর ব্যবস্থাও অন্যতম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে কোম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত করহার অনুযায়ী কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল। অর্থাৎ যে প্রতিষ্ঠানের করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ, তাদের ডিভিডেন্ড আয়েও একই হারে কর প্রযোজ্য হতো। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানের করহার সাড়ে ১২ শতাংশ, তাদের ক্ষেত্রে ওই হার কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

তবে এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ আপত্তি জানায়। তাদের মতে, ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা করহার কার্যকর হলে কর ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি বিনিয়োগকারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং বাজারে বিনিয়োগের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে।

এসব আপত্তি ও প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগের ব্যবস্থাই বহাল রাখার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সে অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানির ডিভিডেন্ড আয়ের ওপর বিদ্যমান ২০ শতাংশ করহারই বহাল থাকতে পারে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, বাজেট প্রণয়নের আগে ব্যবসায়ী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করা হলেও অর্থবিল পাসের আগে কয়েকটি ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উদ্বেগ দূর করা।

আগামী ২৯ জুন জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাসের মাধ্যমে করসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ৩০ জুন কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হবে এবং আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কয়েকটি প্রস্তাবে পরিবর্তন এলেও বাজেটের সামগ্রিক কাঠামো, আকার ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকবে। তবে শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, ডিভিডেন্ড করের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ জোরদার করতে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এসএ খান/

শেয়ারনিউজ২৪ ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

পাঠকের মতামত:

শেয়ারবাজার এর সর্বশেষ খবর

শেয়ারবাজার - এর সব খবর



রে